Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার নজরে রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির ‘সিন্ডিকেট চক্র’, শুরু অনুসন্ধান

আলিপুরে রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিসে রমরমিয়ে চলছিল পুলিশের বদলির সিন্ডিকেট চক্র। টাকা দাও, ভালো  পোস্টিং নাও। এভাবেই  নীচুতলার পুলিশ কর্মীদের একাংশ পচ্ছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

এবার নজরে রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির ‘সিন্ডিকেট চক্র’, শুরু অনুসন্ধান
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আলিপুরে রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিসে রমরমিয়ে চলছিল পুলিশের বদলির সিন্ডিকেট চক্র। টাকা দাও, ভালো  পোস্টিং নাও। এভাবেই  নীচুতলার পুলিশ কর্মীদের একাংশ পচ্ছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং নিয়েছেন বলে অভিযোগ। ই-ওয়ালেটে এই সমস্ত পুলিশ কর্মীদের পেমেন্ট এসেছে ওয়েলফেয়ার কমিটিতে থাকা দুই কনস্টেবলের কাছে। গোটা চক্রের মাথায় ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন পুলিশ কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। তাঁর সহযোগী হিসেবে হিসেবে কাজ করেছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন থেকে রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির মাথায় বসা এক অফিসার। পালাবদল ঘটতেই এমন অভিযোগ আসতে শুরু করেছে পুলিশ ডিরেক্টরেটের কাছে। তাই নিয়ে এবার অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর। একইসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ওয়েলফেয়ার কমিটির তোলা বিপুল পরিমাণ টাকারও হদিশ নেই বলে জানা যাচ্ছে।

Advertisement

তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নীচুতলার পুলিশ কর্মীদের চিকিৎসায় রাজ্য ও কলকাতা পুলিশে ওয়েলফেয়ার কমিটি তৈরি হয়। ওয়েলফেয়ার কমিটি জেলায় জেলায় জোর করে পুলিশ কর্মীদের বাধ্য করে তাদের সদস্যপদ নিতে। ধীরে ধীরে এই সংগঠন তৃণমূলের একটি শাখা সংগঠনে পরিণত হয়। এখানে এসে নীচুতলার পুলিশ কর্মীরা নিজেদের পচ্ছন্দমতো পোস্টিংয়ের জন্য দরবার করতে থাকেন। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে টাকার বিনিময়ে বদলির সিন্ডিকেট চক্র চালাতে শুরু করেন ওয়েলফেয়ার কমিটির কো-অর্ডিনেটর শান্তনু সিনহা বিশ্বাসও ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন থেকে আসা ওই অফিসার। পচ্ছন্দের দুই  কনস্টেবলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাঁরা বদলি চাইছেন, তাঁদের সঙ্গে  কথা বলতে। তারপর কমিটির প্যাডে নামের তালিকা লিখে রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির মাথা ভবানী ভবনে বদলির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কাছে যেতেন। প্রভাব খাটিয়ে কমিটির সবর্ময় কর্তা বদলির লিস্ট চূড়ান্ত করে ফেলতেন।  যাঁদের নামে সিলমোহর পড়ত, তাঁদের ফোন করে তিন থেকে পাঁচ লক্ষ চাইতেন কমিটির সর্বসেবার ঘনিষ্ঠ দুই কনস্টেবল। রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির মাথায় থাকা ব্যক্তির নির্দেশে, তাঁর পচ্ছন্দের দুই কনস্টেবল টাকা নিতেন ই-ওয়ালেটে। টাকা পেমেন্টের পর লিস্ট প্রকাশিত হত ভবানীভবন থেকে। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর টাকার বিনিময়ে এহেন সব বদলি নিয়ে সরব হয়েছেন পুলিশের একাংশ। এই সংক্রান্ত অভিযোগও এসেছে পুলিশ ডিরেক্টরেটে। গোটা বিষয় নিয়ে খোঁজখবর চলছে বলে খবর। যদিও শান্তনুবাবুর আইনজীবীদের দাবি, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সম্পর্কিত সংবাদ