জয়পুর: ১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭১। ক্যাপ্টেন চুন্নি লাল তখন ভারতীয় সেনায়। চীন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনটি যুদ্ধেই দেশের হয়ে লড়েছিলেন তিনি। মাঝে কেটে গিয়েছে দীর্ঘসময়। এখন অবসর জীবন। চুল সাদা। চামড়া কুঁচকে গিয়েছে। বয়স ৯৮ বছর। এই বয়সে এবার জীবনের ‘চতুর্থ লড়াই’তে নেমেছেন চুন্নি লাল। ভুয়ো নথি ব্যবহার করে প্রাক্তন সেনাকর্তার ২৫ বিঘা কৃষিজমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বৃদ্ধ। মোহনলাল, ধান্নারাম, কারনারাম ও ওমপ্রকাশ নামে চারজনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে।
হিমাচলপ্রদেশের কাংড়ার বাসিন্দা চুন্নি লাল। পং ড্যাম প্রজেক্টের সময় তাঁকে ভিটেমাটি ছাড়তে হয়। ওই জমির পরিবর্তে ২০০২ সালে রাজস্থানের জয়সলমীরের মোহনগড় এলাকায় তাঁকে ২৫ বিঘা জমি দেওয়া হয়। কিন্তু সেচের অভাবে ও অন্যান্য সমস্যার জেরে তিনি আবার হিমাচলে ফিরে আসেন। শুরুতে এক প্রতিবেশী রাজস্থানের ওই জমির দেখাশোনা করতেন। কিন্তু পরে আর দেখভালের কেউ ছিল না। সম্প্রতি জমির খোঁজ নিতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে চুন্নি লালের। জানতে পারেন, জমি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। শেষপর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ জুন চুন্নি লালের পরিচয় দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে হাজির হন এক ব্যক্তি। ভুয়ো ছবি, সই, আধার কার্ড ও অন্যান্য নথি ব্যবহার করে জমির ‘সেল ডিড’ তৈরি করা হয়। ২২ জুন জমির মিউটেশনও হয়। তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। চুন্নিলালের কথায়, ‘দেশের হয়ে তিনটে যুদ্ধ লড়েছি। কখনও ভাবিনি, এই বয়সে নিজের জমি বাঁচাতে সরকারি অফিস, থানায় চক্কর কাটতে হবে।’ ছেলে মুলতান সিং ঠাকুরের জানান, বাবা হার্টের রোগী। তিনদিন ধরে এই অফিস থেকে ওই অফিস ছুটছি। উনি এতটাই অসুস্থ যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। তবুও পিছু হটার পাত্র নন।