নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বস্ত সৈনিক’ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। মাত্র একমাসের মধ্যেই ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পদ থেকে। সেইসঙ্গে সাফ জানিয়ে দিলেন, আর কালীঘাটমুখো হবেন না। এমনকি শনিবার বিধানসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকও করেন চন্দ্রিমা। সেই বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন স্বয়ং মমতাও। তাঁর পালটা তোপ, ‘ও (চন্দ্রিমা) তো অনেকদিন ধরেই পদত্যাগ করতে চাইছিল। ওর ছেলে আগেই বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। নিশ্চয়ই কোনো বিষয় আছে!’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর সাফ কথা, ‘মৃতদেহের চুল ছিঁড়ে ওজন হালকা করা যায় না! তৃণমূল নির্মূল!’
শুক্রবারই বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনে থাকা তৃণমূল ভবন দখল করেছে ‘বিদ্রোহীরা’। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কালীঘাট তৃণমূলকে আরও বড়ো ধাক্কা দিলেন মমতার ‘গুডবুকে’ থাকা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এদিন সকালে দলনেত্রীকে চিঠি লিখে তিনি তৃণমূলের যাবতীয় পদ ছাড়ার কথা জানিয়ে দেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, মমতাকে ওই চিঠিতে চন্দ্রিমা সম্বোধন করেছেন ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ বলে। লিখেছেন, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি ছাড়াও আরও দু’টি পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের ‘সমন্বয় রক্ষার’ যে দায়িত্বে ছিলেন, সেটি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। একইসঙ্গে তৃণমূলের যতগুলি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাতে সই করার এক্তিয়ারও ছাড়ছেন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? চন্দ্রিমার অভিযোগ, ‘শুক্রবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ফোন করে বলেন, দলের ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিলে! নেত্রীর এই ফোনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। আমি ভবনটি তুলে দেওয়ার কে! আমি ওঁকে বোঝাতে পারিনি। আমার বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নের মুখে, তখন দলের পদ আঁকড়ে থেকে কী করব!’
এরপরই ছেলে সৌরভকে নিয়ে চন্দ্রিমা সোজা চলে আসেন বিধানসভায় । দেখা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। বিধানসভার বাইরে এসে মমতার বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। মমতা সরকারে চন্দ্রিমা ছিলেন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে। সেকথা মনে করিয়ে তাঁর অভিযোগ, ‘রাজ্যের বাজেট যখন সাধারণ মানুষ জানতে পারেন, তার কিছুক্ষণ আগে আমি সেই বই হাতে পেতাম। আমি অর্থমন্ত্রী, অথচ আগে থেকে কিছুই জানতে পারতাম না।’ চন্দ্রিমা ইস্যুতে যখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই ফেসবুক লাইভে আসেন মমতা। সেখানে তিনি সর্বভারতীয় এবং রাজ্যস্তরের সংগঠনের যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে জানান, তাঁকে সহযোগিতা করার জন্য রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে কাজ করবেন কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্র। তৃণমূলের বিদ্রোহীদের বেইমান, গদ্দার তকমা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে আমি ওদের জোড়াফুল সিম্বল দিয়েছিলাম। আর ভোটের পরে ওরা বিদ্রোহী হয়ে উঠল!’ মমতার আশঙ্কা, ভ্যানিশ কুমার তাঁর পার্টি ফিনিশ করে দিতে পারেন। সিম্বল দিয়ে দিতে পারেন বিদ্রোহীদের। কিন্তু তিনি আশাবাদী, মানুষকে তাঁর থেকে কেড়ে নেওয়া যাবে না।