রাঁচি: সোমবারই যাবতীয় বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। সরকারের সিদ্ধান্তের পরই মধ্যরাতে ১৬ দিনের অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাত। দেবেন্দ্রর পাশাপাশি প্রেম নায়েক ও উম্মে হাবিবা নামে দুই আন্দোলনকারীও অনশন ভেঙেছেন। তবে রাহুল ক্রান্তি, সবিতা কুমারী ও রুপেশ পাল নামের তিন আন্দোলনকারী এখনো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড়। অন্যদিকে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণার পর নতুন করে আন্দোলন দানা বেঁধেছে ঝাড়খণ্ডে। পথে নেমেছেন বিতর্কিত পরীক্ষায় নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি চাকরি প্রাপকরা।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বিতর্কিত সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলি বাতিলের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই দেবেন্দ্রকে ভিডিয়ো কল করেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ‘এটা এমন একটা জয়, যেখানে কেউ হারেনি। আপনারা জিতেছেন, সরকারও জিতেছে। এটা গোটা ভারত, দেশের মানুষ ও ঝাড়খণ্ডের জয়।’ অন্যদিকে হেমন্ত সোরেনের ঘোষণার পর এক্স হ্যান্ডলে রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আলোচনার পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং সমাধানে পৌঁছেছেন। এটাই সঠিক পথ। পড়ুয়ারা প্রশ্ন করলে জবাব মেলা দরকার। আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে আছি। এই শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করব। প্রতিটি শিক্ষার্থী তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের ফল পাবেন।’ এদিকে হেমন্ত সরকারের সিদ্ধান্তের পরই পথে নেমেছে ২ হাজারের বেশি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। মঙ্গলবার সরকারি সচিবালয়ের বাইরে জমায়েত করেন তাঁরা। পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত বদলের দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের যুক্তি, অনিয়মের দায় সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির। সরকারের এই সিদ্ধান্তে বহু যোগ্যপ্রার্থী চাকরি হারাবেন। প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়েরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘সিজিএলে নিয়োগ পাওয়ার পরও আমি সংশয়ে ছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার রায় দেওয়ার পর আমি গয়ায় শিক্ষকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করি। এখন আর আমি আগের চাকরিতে ফিরতে পারব না।’ অন্য একজন জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রীকে বলেছেন চাকরি যাওয়ার পর সে চাইলে সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারে।