Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬

এবার দক্ষিণী শরিক দলের বিদ্রোহে ফাঁপরে বিজেপি, বিশ বাঁও জলে ডিলিমিটেশন বিল

এবার বিদ্রোহ করল জোটশরিকই। ডিলিমিটেশন বিলের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবির ইন্ডিয়ার স্পষ্ট অবস্থানের জেরে প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করতে এখনও পর্যন্ত ব্যর্থ মোদি সরকার ওই বিলকে ঠান্ডাঘরে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।

এবার দক্ষিণী শরিক দলের বিদ্রোহে ফাঁপরে বিজেপি, বিশ বাঁও জলে ডিলিমিটেশন বিল
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: এবার বিদ্রোহ করল জোটশরিকই। ডিলিমিটেশন বিলের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবির ইন্ডিয়ার স্পষ্ট অবস্থানের জেরে প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করতে এখনও পর্যন্ত ব্যর্থ মোদি সরকার ওই বিলকে ঠান্ডাঘরে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। বিগত কিছু মাস ধরে লাগাতার রাজ্যে রাজ্যে অপারেশন লোটাস চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা অর্জন করা যায়নি। ডিলিটিমেশন বিল যেহেতু সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই দুই তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন জরুরি। প্রয়োজন ৩৬০। কিন্তু  মোদি সরকার আশা করেছিল ভবিষ্যতে হয়ত বিরূপ পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার সংখ্যা সংগ্রহের মিশন সাফল্য পাবে। কিন্তু এবার বিজেপির দক্ষিণের অন্যতম প্রধান জোট শরিকই বিদ্রোহ করল। তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে বুধবার বিধানসভায় রাজ্যের বাকি দলগুলির সঙ্গে একসুরেই সরকারের আনা ডিলিমিটেশন বিল বিরোধী প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে।

Advertisement

তামিলনাড়ু বিধানসভায় জোশেফ বিজয়ের সরকার এই মর্মে প্রস্তাব পেশ করে যে, ডিলিমিটেশন বিল যে ধাঁচে কেন্দ্রীয় সরকার আনতে চাইছে সেটি সমর্থন করা যাবে না। কারণ, তামিলনাড়ুর লোকসভা আসন কমে যাবে। এবং এই বিলের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে যুক্ত করাও অপ্রয়োজনীয়। ইন্ডিয়া জোটের মতোই বিজয় সরকারও বলেছে, মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৩ সালে পাশ হয়ে গিয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে সেটি চালু করে দেওয়া হোক। কিন্তু ৫৪৩ লোকসভা আসনের ভিত্তিতে। তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ হয়েছে যে, লোকসভা আসন ৫৪৩ রাখতে হবে। অর্থাৎ যা আছে। আর যা ডিলিমিটেশন হবে সেটি এই সংখ্যার ভিত্তিতেই হবে। কোনো আসন বৃদ্ধির দরকারই নেই। বিধানসভায় একটি রাজ্যের শাসক, বিরোধী সব দলেরই ডিলিমিটেশনের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেওয়া এই প্রথম। স্বাভাবিকভাবেই মোদি সরকারের কাছে সবথেকে অস্বস্তিকর হল, এই তালিকায় তাদের জোটশরিক এআইএডিএমকে আছে। সাংবিধানিকভাবে  ডিলিমিটেশন বিল পাশ করিয়ে সেটি চালু করে আসন পুনবির্ন্যা঩সের অধিকার প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকার এবং তারপর নির্বাচন কমিশনের। সুতরাং সেখানে রাজ্য বিধানসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু রাজনৈতিক বার্তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক, যদি দেখা যায় একের পর এক রাজ্যের বিধানসভা বিরোধিতা করছে। এআইএডিএমকের লোকসভায় এমপি সংখ্যা শূন্য। কিন্তু রাজ্যসভায় ৪। অতএব সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ক্ষতি হবে। আর ডিএমকেকে নিয়ে বিজেপির আশা ছিল যে, তাদেরও দলে টানা যাবে। কিন্তু বুধবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় ডিএমকে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা ডিলিমিটেশন বিলের বিরোধী ছিল এবং থাকবেও। অতএব ক্রমেই ডিলিমিটেশনের বর্তমান বিল পাশ করানোর পথ কঠিন হচ্ছে মোদি সরকারের কাছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ