


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোর করে জমি দখলের মামলায় ধৃত কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুকে নাগালে পেল ইডি। সোমবার বেলা বারোটা নাগাদ বিশ্বজিত পোদ্দার ওরফে সোনাপাপ্পু স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন। জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
জোর করে জমি দখলের মামলায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী বিশ্বজিত পোদ্দার ওরফে সোনাপাপ্পুর গড়িয়াহাটের ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ২০০’র বেশি দলিল। একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র মেলে তাঁর বাড়ি থেকে। জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে একাধিকবার তাঁকে নোটিস পাঠায় ইডি। কিন্তু হাজিরা দেননি। উলটে সমাজমাধ্যমে লাইভ করে ইডিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এই মামলায় ধৃত জয় কামদারের সঙ্গে সোনাপাপ্পুর যৌথ ব্যবসার নথি পান তদন্তকারীরা। দিন পাঁচেক আগে ইডি গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। ইডি আধিকারিকরা জানতে পারেন, সোনাপাপ্পুকে আশ্রয় দিয়েছেন জয়। এই বিষয়টি জানতেন শান্তনুবাবু। জয় কামদার জেরায় ইডির কাছে স্বীকার করে নেন, পলাতক অবস্থায় সোনাপাপ্পুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। কিন্তু এই দুষ্কৃতী এখন কোথায়, তা জানাতে চাননি। শান্তনুবাবুকে সোনাপাপ্পুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, প্রথমে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সূত্রের খবর, দীর্ঘ জেরা পর্বে তিনি শেষ পর্যন্ত অবশ্য সোনাপাপ্পুর বর্তমান আশ্রয়স্থলের হদিশ দেন। এরপরই স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করে সোনাপাপ্পুর অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। তাঁকে ধাওয়া করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। এরপরই সোমবার সোনাপাপ্পু সস্ত্রীকে হাজির হন সিজিও কমপ্লেক্সে। সেখানে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, পালিয়ে যায়নি, কলকাতাতেই ছিলাম। জেরা পর্বে তদন্তকারীরা জোর করে দখল করা জমির দলিল তুলে ধরেন। ওই জমিগুলি কম দামে মালিকদের বিক্রি করতে সোনাপাপ্পু বাধ্য করেছিল বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।