প্যারিস: সালটা ১৯৭০। অসুস্থ মা বিছানায় শুয়ে রোজ ঘ্যান ঘ্যান করত। মাথাটা বিগড়ে যায়। একদিন ঘরে ঢুকে রোগাক্রান্ত মাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। মাঝে বছর কুড়ি পার। ১৯৯০ সালে শ্বাসরোধ করে নিজের ৯২ বছরের পিসিকেও খুন করে। জেরার টেবিলে লোকটির একের পর এক খুনের স্বীকারোক্তি শুনে তদন্তকারী অফিসারদের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। নাম জাকস লেভ্যুগল। ফরাসি শিক্ষক। দেখতে নিপাট ভদ্রলোক। কিন্তু পাঁচ দশক ধরে তার যৌন লালসার শিকার ভারত সহ ন’টি দেশের ৮৯ জন নাবালক। এদের প্রত্যেকের বয়স ১৩-১৭ বছরের মধ্যে। যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথি নিয়ে তোলপাড় গোটা বিশ্ব। এরইমাঝে আর এক কুখ্যাত অপরাধীর নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে আনল ফ্রান্স। ২০২২ সালে ‘পেডোফিল’ জাকসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ২০২৪ সাল থেকে সে জেলে বন্দি। এবার জাকসের পরিচয় প্রকাশ্যে আনলেন ফ্রান্সের সরকারি আইনজীবী এতিয়েন মানতো। তাঁর কথায়, ‘সময় এসেছে। সবার এই নামটি জানা প্রয়োজন। যাতে নিপীড়িতরা সামনে আসার সুযোগ পান। এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে পারেন।’
১৯৪৬ সালে ফ্রান্সের অ্যানেসি জন্ম জাকসের। ফ্রিলান্স শিক্ষক ও প্রশিক্ষক হিসাবে নানা দেশে ঘুরে বেড়ায়। ফরাসি ভাষা শেখানোর পাশাপাশি স্পেলিওলজি (গুহাবিজ্ঞান) পড়াত সে। নতুন নতুন দেশে গিয়ে কোথাও গৃহশিক্ষক কোথাও বা কোনো প্রতিষ্ঠানের আংশিক সময়ের শিক্ষক হিসাবে কাজে যোগ দিত। এরপর পড়ুয়া সহ আশপাশের কিশোরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে চলত ধর্ষণ, যৌন হেনস্তা। ১৯৬৭ থেকে ২০২২ সাল। পাঁচ দশক তার টার্গেট ছিল মূলত ১৩-১৭ বছরের কিশোররা। সংখ্যাটা ৮৯ জন! তালিকায় ভারত, জার্মানি, সুইৎজারল্যান্ড, মরক্কো, আলজেরিয়া, কলম্বিয়া সহ ন’টি দেশ রয়েছে। নিজেকে ‘জেন্টেলম্যান বয় লাভার’ হিসাবে পরিচয় দিতে পছন্দ করত জাকস। আইনজীবীর কথায়, খুব বুদ্ধিদীপ্তভাবে কিশোরদের ফাঁদে ফেলে যৌনকর্মে লিপ্ত হত অপরাধী। কখনও খুব বেশি হিংস্রতার পরিচয় মেলেনি। তাই সহজে বিষয়টি সামনে আসেনি। একটি ইউএসবি ড্রাইভে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্কের যাবতীয় বিবরণ লিখে রাখত জাকস। আর সেটাই কাল হল। ২০২২ সালে জাকসের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ হয় তার ভাইপোর। কাকার ওই ইউএসবি ড্রাইভটি পুলিশের হাতে তুলে দেয় সে। গোটা বিশ্বের সামনে জাকসের মুখোশ খুলে যায়। জাকস লেভ্যুগল।