Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বুলডোজারের ছায়া টাকিতে! ২০টি হোটেল ও নির্মাণ মালিককে নোটিস

টাকিতে ২০টি হোটেল মালিককে নোটিস পাঠানো হয়েছে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে। প্রশাসনের পদক্ষেপে বুলডোজারের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

বুলডোজারের ছায়া টাকিতে! ২০টি  হোটেল ও নির্মাণ মালিককে নোটিস
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: টাকিতে ইছামতির পাড়ে দাঁড়ালে চোখে পড়ে সারি সারি হোটেল আর বহুতল। পর্যটনের শহর হিসাবে টাকির এই বদলে যাওয়া চেহারাকে এতদিন উন্নয়নের ছবি হিসাবেই দেখানো হয়েছে। কিন্তু সেই চকচকে ছবির আড়ালেই লুকিয়ে অন্ধকার। অভিযোগ, সরকারি জমি দখল, নদীর চর ভরাট ও বেআইনি নির্মাণের লম্বা ইতিহাস। রাজ্যে পালাবদলের পর টাকি পুরসভার তৎপরতায় সেই বিষয়টি এখন সামনে এসেছে। পুরসভার পক্ষ থেকে টাকির ইছামতি নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা হোটেল ও বাড়িকে নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২০টি নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে অর্ধেকের মালিকই নোটিসে দেওয়া তারিখে নথি নিয়ে হাজির হননি। বাকিরা হাজির হলেও সূত্রের খবর, তাঁদের নথিতে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

Advertisement

তাহলে কি এবার টাকিতে বুলডোজার চলবে? এ নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক মদতকে হাতিয়ার করেই ইছামতির পাড়ে গড়ে উঠেছে একের পর এক হোটেল, লজ, অতিথি নিবাস এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা। কোথাও নদীর চর দখল হয়েছে, কোথাও সরকারি জমির চরিত্র বদলে ফেলা হয়েছে। কোথাও আবার পুরসভার জমিতেই গড়ে উঠেছে পাকা নির্মাণ। এতদিন সেই অভিযোগ কার্যত চাপা পড়ে থাকলেও ক্ষমতা বদলের পরই প্রশাসনের নড়াচড়ায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে গোটা বিষয়টি।
পুরসভা সূত্রে খবর, প্রথম ধাপে প্রায় ২০টি হোটেল ও বিল্ডিং মালিককে নোটিস ধরানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্মাণের বৈধ অনুমোদন, জমির নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিস পাওয়ার পর কমবেশি ১০ জন মালিক পুরসভায় এসে নথি পেশ করেছেন। কিন্তু তাতে গরমিল আছে। কিন্তু বাকি মালিকরা এখনও পর্যন্ত কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি বলে দাবি পুর প্রশাসনের। ফলে এখানেই প্রশ্ন, যাঁরা নথি দেখাতে পারছেন না, তাঁদের নির্মাণ কি আদৌ বৈধ? প্রশাসনিক মহলের ইঙ্গিত, এই পদক্ষেপের মধ্যে ভাঙার অভিযানও থাকতে পারে। ফলে ইছামতির পাড়ে বহু বিতর্কিত নির্মাণের মাথার উপর এখন কার্যত বুলডোজারের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে। প্রসঙ্গত, সারা বছর টাকিতে পর্যটকদের ভিড় থাকে। এর জেরেই রাতারাতি বেড়ে উঠেছে হোটেল ব্যবসা। অভিযোগ, সেই হিড়িকের সুযোগ নিয়ে তৃণমূলের প্রভাবশালীদের একাংশ নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। পুরসভার অন্দরের খবর, প্রথম দফার ২০টি নোটিসই শেষ নয়। আগামী দিনে মোট ৭০টির মতো হোটেল ও বিল্ডিং মালিককে নোটিস পাঠানো হবে। রয়েছে একাধিক তৃণমূল নেতার হোটেলের লম্বা তালিকা।

সম্পর্কিত সংবাদ