Bartaman Logo
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষক তৈরির প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশই নেই! পূর্ব মেদিনীপুরের ৩২টির মধ্যে ২৯টি বেসরকারি বিএড কলেজকে শোকজ

কলেজে পড়ান নিয়মিত। অথচ, ছাত্রছাত্রীরা সেই অধ্যাপককে চিনতেই পারেননি! অধ্যাপকের নামটাও পর্যন্ত বলতে পারেননি!

শিক্ষক তৈরির প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশই নেই! পূর্ব মেদিনীপুরের ৩২টির মধ্যে ২৯টি বেসরকারি বিএড কলেজকে শোকজ
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: কলেজে পড়ান নিয়মিত। অথচ, ছাত্রছাত্রীরা সেই অধ্যাপককে চিনতেই পারেননি! অধ্যাপকের নামটাও পর্যন্ত বলতে পারেননি! অনুমোদিত ফ্যাকাল্টি রয়েছে। অথচ, কার্যক্ষেত্রে কারও উপস্থিতি নেই! ভবিষ্যতের শিক্ষক তৈরির প্রতিষ্ঠান। অথচ, সেখানে শিক্ষার পরিবেশই সন্তোষজনক নয়! সিসি ক্যামেরা রয়েছে, কাজ করছে না অধিকাংশই! 

Advertisement

পূর্ব মেদিনীপুরে বেসরকারি বিএড কলেজের মোট সংখ্যা ৩২টি। সব’কটির ইন্সপেকশন হতেই পর্দা ফাঁস। মাত্র তিনটি কলেজ বাদে বাকি ২৯টি কলেজই   এনসিটিই’র গাইড লাইন উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শোকজ করা হয়েছে ওই ২৯টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে। বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রারের তরফে এই শোকজের চিঠি ধরানো হয়েছে। কোনো কলেজের বিরুদ্ধে ১২দফা কারও বিরুদ্ধে ১৬দফা অভিযোগ তুলে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওইসব কলেজের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তা জানাতে হবে আগামী ২১দিনের মধ্যে। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে শিক্ষামহলে। বেসরকারি বিএড কলেজগুলিতে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।  রামনগর থেকে পাঁশকুড়া পর্যন্ত জেলায় মোট ৩২টি সেল্ফ ফিনান্সড বিএড কলেজ রয়েছে। তারমধ্যে চৈতন্যপুর, মেচগ্রাম ও হাউরে তিনটি কলেজ ছাড়া সবক’টি কলেজকে শোকজের চিঠি ধরানো হয়েছে। সম্প্রতি, কলেজগুলির  পরিকাঠামো, ফ্যাকাল্টি, হাজিরা এবং উৎকর্ষতা যাচাই করতে তিনটি স্তরে ইন্সপেকশন হয়েছিল। জেলার বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপালদের নিয়ে টিম গঠন করে একদফায় ইন্সপেকশন হয়। আবার, সরাসরি বিকাশ ভবন থেকেও টিম এসে ভিজিট করে। মোট ১০০নম্বরের মূল্যায়ণ হয়। অধিকাংশ পাশমার্কস অর্জন করতে পারেনি।
পরিদর্শনেওঠে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোথাও বায়োমেট্রিক হাজিরা কার্যকর হয়নি, আবার কোথাও ভিজিটের দিন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অধিকাংশ গরহাজির ছিলেন। পড়ুয়াদের হাজিরার অবস্থাও শোচনীয়। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের ডিবিটির মাধ্যমে বেতন দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেকেই সেটা মানেনি। আবার, পড়ুয়াদের বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করার পর বেশকিছু কলেজ সেই নিয়মের তোয়াক্কা করেনি। কোথাও লাইব্রেরি নিয়ে সমস্যা। আবার কোথাও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাই নেই। এমনও হয়েছে, একটি কলেজে পরিদর্শনের দিন উপস্থিত পড়ুয়ারা তাঁদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নামই বলতে পারেননি। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আসা যাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। একাধিক কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না বলেও শোকজ চিঠিতে বলা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে রাজ্যে মোট ৬০২টি বেসরকারি বিএড কলেজে পরিদর্শন হয়েছে। তারমধ্যে ৫৩টি কলেজে অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এরকম কোনও কলেজ না থাকলেও ২৯টি কলেজ এনসিটিই-র গাইডলাইন লঙ্ঘন করেছে। বাজকুলের একটি বিএড কলেজের কর্ণধার তপনকুমার বেরা বলেন, ‘মোট ২৯টি কলেজকে শোকজের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে, এটা কিছুটা পক্ষপাতমূলক হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আমার কলেজে ১৩২টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তবুও শোকজ চিঠিতে বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরা নেই কিংবা অকেজো। চৈতন্যপুরের বিএড কলেজটি বাজারের ভিতর অবস্থিত। খেলার মাঠ নেই। অথচ, তাদের শোকজের বাইরে রাখা হয়েছে। ’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ