


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শুক্রবার চলেছিল বুলডোজার। শনিবার কোন্নগর পুরসভার কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হলেন। পাশাপাশি, উত্তরপাড়ার হিন্দমোটরের জলাজমির অবৈধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করল ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর। দু’য়েরই নেপথ্যে উত্তরপাড়ার নতুন বিজেপি বিধায়ক এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর জিরো টলারেন্স নীতি। শনিবার দিনভর কোন্নগর থেকে উত্তরপাড়া পর্যন্ত ঘুরে বেরিয়েছেন নতুন বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভূমি ও ভূমিসংস্কারের দপ্তরের স্থানীয় কর্তারা। হিন্দমোটরের জলজমিতে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে ভেড়ি চালানোর অভিযোগ ছিল স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে। এদিন সেখানকার পাঁচটি মৌজায় নোটিস জারি করেছে ভূমিসংস্কার দপ্তর।
দুপুরের ওই অভিযানের মাঝেই গ্রেপ্তার করা হয় কোন্নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার খোকন ওরফে বাবলু পালকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে তৃণমূলের পার্টি অফিস তৈরি, অবৈধ ব্যবসা, জাল নথি দিয়ে জমি লেনদেন সহ একগুচ্ছ অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদিন পদ্মবিধায়ক কোন্নগর ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ওই অফিসার অন্যায় জেনেও চুপ করেছিলেন। বেআইনি কাজে মদত দেওয়া অফিসারকে আমি আমার বিধানসভা এলাকায় চাই না। ওই কাউন্সিলার নাকি বলতেন, তাঁর এক পকেটে চেয়ারম্যান আর অন্য পকেটে পুলিশ থাকে। বিরাট বড় ওই নেতার বিরাট পকেট সিল করে দিয়েছি। অন্যদিকে, ভূমিসংস্কার দপ্তরের নোটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিন্দমোটরে মাফিয়া সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছিল। কোটি কোটি টাকার বেআইনি মাছচাষকে কেন্দ্র করে অনিয়মের পাহাড় তৈরি হয়েছিল। এদিন তার উপরেও কামান দেগেছি। আরও অভিযান ও পদক্ষেপ হবে। উত্তরপাড়া-কোন্নগরের প্রতিটি ইঞ্চি মাফিয়ামুক্ত করে ছাড়ব। গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল কাউন্সিলার অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে দাবি করেছেন। কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা স্বপন দাস অবশ্য গোটা ঘটনায় মন্তব্য করতে চাননি। প্রসঙ্গত, শুক্রবারই কোন্নগরের রেলস্টেশনের সাবওয়ের কাছে একটি টোলঘর বিধায়ক দীপাঞ্জন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওই টোলঘরটি বেআইনিভাবে চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।