Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এলোপাথাড়ি নয়, বুকে একটিই ছুরির কোপ! আঘাত মাথাতেও

‘স্যার, ছুরি নিয়ে ও আগে আমাকে মারতে এসেছিল। আমি নিজেকে বাঁচাতেই ওকে ছুরি মেরেছি’!

এলোপাথাড়ি নয়, বুকে একটিই ছুরির কোপ! আঘাত মাথাতেও
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘স্যার, ছুরি নিয়ে ও আগে আমাকে মারতে এসেছিল। আমি নিজেকে বাঁচাতেই ওকে ছুরি মেরেছি’! সল্টলেকে কিংবদন্তি ফুটবলার পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পরিচারক খুনে ধৃত গাড়ির চালক বরুণ ঘোষ পুলিসের কাছে এমনটাই দাবি করেছিল। কিন্তু, তদন্তে উঠে আসছে নয়া তথ্য! পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পরিচারক গোপীনাথ মুহুরির শরীরে কোনও এলোপাথাড়ি কোপ নেই! বুকে একটিই ছুরির কোপ রয়েছে! সেটা খুবই গভীর। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মাথাতেও আঘাত মিলেছে। দেওয়ালে বা মেঝেতে সজোরে ধাক্কা খেলে, যে ধরনের আঘাত হয়, সেই আঘাত! পুলিসের অনুমান, আত্মরক্ষা নয়, গোপীনাথকে বেধড়ক মারধর করেই বুকে ছুরি ঢুকিয়ে খুন করেছে অভিযুক্ত!

Advertisement

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে সল্টলেকে জিডি ব্লকে বিখ্যাত ফুটবলারের বাড়িতে খুন হন কেয়ারটেকার-পরিচারক গোপীনাথ মুহুরি। খুনের অভিযোগে ওই বাড়ির গাড়ির চালক বরুণ ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিস। জেরায় বরুণ খুনের কথা স্বীকার করেছে। তবে সে দু’টো দাবি করেছে। প্রথমত, ৫ হাজার টাকা চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল তাকে এবং দ্বিতীয়ত, সে আত্মরক্ষার জন্যই ছুরি চালিয়েছিল। সোমবার সল্টলেকের ওই বাড়িতে তদন্তে আসেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে রক্ত সহ বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
এক পুলিস অফিসার বলেন, আত্মরক্ষার জন্য কেউ ছুরি চালালে এলোপাথাড়ি চালাবে। কিন্তু, মৃত গোপীনাথের বুকে একটি মাত্র ছুরির কোপ মিলেছে, তা অত্যন্ত গভীর। এছাড়া বুকের যে জায়গায় ছুরির কোপ মারা হয়েছে, সেখানে কোপ মারা হলে মৃত্যু নিশ্চিত। এতটা নিখুঁত স্থান ধৃত চালক জানল কী করে? দ্বিতীয়ত, মারধরের সময় মৃতের মাথা দেওয়ালে ঠোকা হয়েছে এবং মেঝেয় ফেলেও সম্ভবত মারধর করা হয়েছে। বাড়িতে সেই সময় কেউ দেখতে বা শুনতে পেলেন না? পুলিসের দাবি, গোপীনাথকে যখন মারধর করা হচ্ছিল, তখন সেটা একজন দেখে ফেলেছিলেন। কিন্তু এর আগেও তাদের দু’জনের মধ্যে মদ খেয়ে বহুবার বচসা ও হাতাহাতি হয়েছে। তাই বিষয়টিকে তিনি সেভাবে আমলা দেননি। ভেবেছিলেন, নিজেরাই হয়তো থেমে যাবে। কিন্তু আচমকা একটি চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যান্য পরিচারিকারা ছুটে এসে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন গোপীনাথ!
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বরুণের শারীরিক গঠন বেশ লম্বা ও চওড়া। সে স্বাস্থ্যবান। মৃত কেয়ারটেকার তার তুলনায় অনেকটাই রোগা ও দুর্বল। ফলে, গোপীনাথ আগে তার উপর হামলা করতে গিয়েছিল, সেই যুক্তি কতটা সত্যি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্টে, বরুণ যে তাঁকে মারধর করে খুন করতে পারে, সেটা তার শারীরিক গঠন অনুযায়ী সম্ভব। তাই আত্মরক্ষার জন্য খুন, এই তত্ত্ব নিয়ে সন্দিহান পুলিস। বিষয়টি ভালো করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ