Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুধু ভোটকেন্দ্র নয়, ঝাড়গ্রামে লীলাবতী শিক্ষা সদন কবিগুরুর স্মৃতিধন্য ‘বোধনা নিকেতন’

কেবলমাত্র ভোটকেন্দ্র হিসেবেই এখনও এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য বাঁশতলার বোধনা ‘নিকেতন। অবশ্য পরবর্তী কালে এই প্রতিষ্ঠানের নাম হয়েছে লীলাবতী শিক্ষা সদন।

শুধু ভোটকেন্দ্র নয়, ঝাড়গ্রামে লীলাবতী শিক্ষা সদন কবিগুরুর স্মৃতিধন্য ‘বোধনা নিকেতন’
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: কেবলমাত্র ভোটকেন্দ্র হিসেবেই এখনও এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য বাঁশতলার বোধনা ‘নিকেতন। অবশ্য পরবর্তী কালে এই প্রতিষ্ঠানের নাম হয়েছে লীলাবতী শিক্ষা সদন। প্রশাসনিক ভাবে এই ভোট কেন্দ্রের নাম লীলাবতী জুনিয়র হাই স্কুল। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম বিধানসভার বাঁধগোড়া পঞ্চায়েতের অধীনে ২২৯ নম্বর বুথ হল লীলাবতী জুনিয়র হাই স্কুল। এবারে নির্বাচনে এই বুথে মোট ভোটার ৮৩২ জন। টিয়াকাটি , টুকরুভুলা, বাঁশতলা ও খাসডাহি এই চার গ্রামের বাসিন্দারা আজ এই ভোটকেন্দ্রে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য জড়ো হবেন। প্রশাসনের খাতায় এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে এখানে কোনো পঠন-পাঠন হয় না। কেবলমাত্র ভোটের সময় প্রতিষ্ঠানটি সাফসুতরো করে ব্যবহার হয়। বাঁশতলা রেল স্টেশনের সামনে একেবারে জঙ্গলঘেরা জায়গায় এই ভোটকেন্দ্র।  এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে।  ‘বোধনা নিকেতন’  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত। ইতিহাস বলছে, তিরিশের দশকে রবীন্দ্রনাথের পরামর্শে বোধনা নিকেতন নামের মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য এই স্কুল নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যারিস্টার গিরিজাভূষণ মুখোপাধ্যায়।  স্কুলটি উদ্বোধনের সময় রবীন্দ্রনাথ নিজে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ‌ কিন্তু তিনি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। 
পরবর্তীকালে সত্তরের দশকে হাওড়ার প্রখ্যাত ব্যবসায়ী তারাপদ সাউ বাঁশতলার স্টেশন সংলগ্ন জঙ্গল অধ্যুষিত এই এলাকায় কড়াই তৈরির কারখানা ও কৃষি খামার তৈরি করেন। ১৯৭৩ সালে ঝাড়গ্রামের সেবাইতনে  আসার সময় আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও নাট্যকার মন্মথ রায় তারাপদবাবুর আমন্ত্রণে বাঁশতলায় যান। সেই সময় থেকে ‘বোধনা নিকেতনে’র কাজ জোরকদমে শুরু হয়। তবে স্কুলের নাম বদলে তারাপদ বাবুর স্ত্রীর নামে লীলাবতী শিক্ষাসদন রাখা হয়। পরবর্তীকালে বাম জমানায় স্কুলটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি অনুমোদন না মেলায় নির্মীয়মান এই স্কুল বছরভর ভূতুড়ে বাড়ির মতোই পড়ে ছিল। শুধু ভোট এলেই এলাকার বাসিন্দারা লাইনে দাঁড়িয়ে এই স্কুলে ভিড় জমান।  ওই ভোটকেন্দ্রের বিএলও কাঞ্চন সিং বলেন, আমাদের বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩২ জন। পাশের চারটি গ্রামের ভোটাররা এই কেন্দ্রেই ভোট দিতে আসেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ