নয়াদিল্লি: গৃহবধূরা জাতির নির্মাতা। গৃহস্থালির কাজ ও পরিবারের প্রতি তাঁদের অবদানকে অর্থের মাপকাঠিতে নির্ণয় করা যায় না। তবুও কোনো ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন উঠলে কিংবা আর্থিকভাবে তাঁদের কাজের মূল্য নির্ধারণ করার প্রয়োজন পড়লে মাসে তা প্রায় ৩০ হাজার টাকা হওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার এক মামলার শুনানিতে এমনই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০১ সালের নভেম্বর মাসে পাঞ্জাবে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল রেশমা নামে এক মহিলার। এরপরই মোটর অ্যক্সিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনালে ক্ষতিপূরণের দাবি জানায় মৃত মহিলার স্বামী ও তিন সন্তান। তাদের ২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু তা পর্যাপ্ত ছিল না। পরের দিকে ক্ষতিপূরণের অর্থ বাড়াতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মৃতের পরিবার। দীর্ঘ শুনানির পর সেখানে ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে ৮ লক্ষ ৪৩ হাজার করা হয়। ৭.৫ শতাংশ সুদও যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি মৃতের পরিবার। শেষমেশ তারা সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়ে। এদিন সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চের তরফে জানানো হয়— গৃহবধূরা জাতির নির্মাতা। দেশ ও সমাজ গড়ে তোলেন তাঁরা। এই অবদানকে টাকা দিয়ে মাপা যায় না। তবুও ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গ উঠলে তাদের গৃহস্থালির কাজের জন্য মাসে অন্তত ৩০ হাজার টাকা ধার্য করা উচিত। পরিবারের উপার্জনশীল সদস্য আসলে এই ‘হোমমেকার’দের উপরই নির্ভরশীল। কিন্তু তাঁরা প্রাপ্য স্বীকৃতি পান না।



