


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আবারও অধরা সমাধান সূত্র। বুধবার চণ্ডীগড়ে কেন্দ্র-কৃষক বৈঠক ফের নিষ্ফলা। পরিবর্তে দু’মাস পর, আগামী ৪ মে বৈঠকে বসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং আন্দোলনকারী কৃষক প্রতিনিধিরা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পীযূষ গোয়েল এবং প্রহ্লাদ যোশি। নিষ্ফলা বৈঠকের রাতেই আন্দোলনকারী কৃষকদের অস্থায়ী ছাউনি, শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পাঞ্জাব পুলিসের বিরুদ্ধে। বৈঠক ব্যর্থ হতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের অঙ্গুলিহেলনে পাঞ্জাব সরকার এই কাজ করেছে বলে দাবি কৃকে নেতাদের। জানা যাচ্ছে, বুধবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের একটিই এজেন্ডা ছিল—এমএসপি আইন কার্যকর করা। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁদের স্পষ্টই জানিয়ে দেন, এটি আইন পরিবর্তনের প্রশ্ন। ফলে সময়সাপেক্ষ। সেই কারণে একটিমাত্র বৈঠকে এভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়। বড়জোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা সম্ভব। তা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারী কৃষক প্রতিনিধিরা পাল্টা জানান, এমএসপি আইন কার্যকরের আশ্বাস ছাড়া আর কোনও এজেন্ডাতেই তাঁরা কথা বলতে রাজি নন। পরে অবশ্য কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, কথাবার্তা আরও চলবে। দু’পক্ষই তাঁদের বক্তব্য জানিয়েছে। কৃষক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, বারবার বৈঠক নিষ্ফলা হওয়ার অর্থ একটাই, মোদি সরকারই আদতে অচলাবস্থা কাটাতে চাইছে না। তাই মোদি বিরোধিতায় প্রচার আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু এবং খানাউরি সীমানায় অবস্থান আন্দোলন করছেন কৃষকরা। এদিন রাতে শম্ভু সীমানায় আন্দোলনরত কৃষকদের উপর তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল পাঞ্জাব পুলিসের বিরুদ্ধে। কৃষকদের দাবি, এদিন রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি, শিবির গুঁড়িয়ে দেয় পুলিস। খুলে নেওয়া হয় পাখা, লাইট। গ্রেপ্তার করা হয় আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের অন্যতম এস এস পান্ধের এবং জগজিৎ সিং দাল্লেওয়ালকেও। শম্ভুর পাশাপাশি খানাউরি সীমানাতেও পুলিসি পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন জোরদার হয়েছে বলে হুঁশিয়ারি সংগঠনগুলির।