Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গকে বললেন উত্তর বিহার, প্রচারে সাম্প্রদায়িকতার উসকানি দিলেন যোগী

উত্তরবঙ্গে প্রচারে এসে সাম্প্রদায়িকতার উসকানি দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার কোচবিহারের মাথাভাঙা ও জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে জনসভা করেন তিনি।

উত্তরবঙ্গকে বললেন উত্তর বিহার, প্রচারে সাম্প্রদায়িকতার উসকানি দিলেন যোগী
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: উত্তরবঙ্গে প্রচারে এসে সাম্প্রদায়িকতার উসকানি দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার কোচবিহারের মাথাভাঙা ও জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে জনসভা করেন তিনি। দু’জায়গাতেই ভাষণ দিতে গিয়ে যোগী কখনও ধমকান, কখনও চমকান। সেইসঙ্গে ধর্মের নামে বিভাজন করতে দেন সাম্প্রদায়িকতার উসকানি। উত্তরবঙ্গের মানুষের সুখ-দুঃখের কথা একবারের জন্যও শোনা যায়নি তাঁর মুখে। বরং মাথাভাঙার সভা থেকে উত্তরবঙ্গকে ‘উত্তর বিহার’ বলে সম্বোধন করেন যোগী। যদিও পরে নিজের ভুল শুধরে নেন। তাতে অবশ্য বিতর্ক থামছে না। যোগীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ উত্তরের আমজনতা। প্রতিবাদে সরব তৃণমূল। নিছক ভুল করে নয়, উত্তরবঙ্গকে ‘উত্তর বিহার’ বলে সম্বোধন করার পিছনে যোগীর ‘অভিসন্ধি’ রয়েছে বলে তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

Advertisement

শুক্রবারই কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে তোপ দেগেছিলেন, বিজেপি হারবে জেনে ডিলিমিটেশন বিল এনে দেশটাকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। এতে একদিন কোচবিহার হারিয়ে যাবে। থাকবে না উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং কিংবা শিলিগুড়ি। মমতার এ হেন আশঙ্কার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোচবিহারের মাথাভাঙায় দাঁড়িয়ে যোগী আদিত্যনাথ উত্তরবঙ্গকে ‘উত্তর বিহার’ বলে মন্তব্য করায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে। যোগীর মন্তব্যে উত্তরের বাসিন্দারা তৃণমূল সুপ্রিমোর আশঙ্কারই ছায়া দেখতে পারছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নিজেদের পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গের নাম মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বিজেপি। সেটাই এদিন যোগীর মুখ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। 
কেন্দ্রে ১২ বছর ক্ষমতায় থাকা মোদি সরকারের উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য কী করা উচিত ছিল আর তিনি কী করেছেন, তা নিয়ে এদিন একটি শব্দও খরচ করতে শোনা যায়নি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে। ধূপগুড়ির সভায় চা শ্রমিকদের নাম একবারের জন্য উচ্চারণ করলেও, তাঁদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কী করার কথা ছিল, কেন তা আজও হল না, ভোটের ময়দানে সেসবের জবাব দেওয়ার ধারে কাছে দিয়েও যাননি যোগী। পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতো তিনিও ‘অনুপ্রবেশের তত্ত্ব’ আওড়েছেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল নেতাদের উলটো করে ঝুলিয়ে গায়ে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে পেটানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হুমকি দিয়েছেন বুলডোজার দিয়ে হাত-পা ভাঙার। যোগীর সভামঞ্চ থেকে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী ভোটের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল নেতাদের ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেন। মনীষী পঞ্চানন বর্মা ও বীর চিলা রায়ের নাম মুখে নিলেও, এদিন সভায় আসা মানুষজনের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাননি যোগী।

সম্পর্কিত সংবাদ