সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দুর্নীতি দমন শাখার হাতে ঘুষ নিতে গিয়ে মর্গের এক কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের আনাগোনা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার মর্গের কর্মী বাবলু মল্লিককে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন শাখা। এরপর শুক্রবার হাসপাতাল চত্বরে গেট থেকে ওয়ার্ড, আউটডোর এবং টিকিট কাউন্টার সর্বত্র সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাফেরা করা পরিচিত মুখগুলির দেখা মেলেনি বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁদের পরিবারের পিছনে ঘুরে বিভিন্ন পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা চাইত একাংশ দালাল। হাসপাতালেরই কিছু কর্মীর সঙ্গে তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘুষকাণ্ডের পর সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ থাকা কর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
এদিকে, মর্গের সামনে থাকা একাধিক দোকান শুক্রবার বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর জানান, হাসপাতাল চত্বরকে দালালমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে। মর্গের সামনে থাকা খাবারের দোকানগুলিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ছিল, ওসব দোকান থেকে কফিন বিক্রির পাশাপাশি ময়নাতদন্ত করাতে আসা মৃতের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ক্ষেত্রেও চাপ সৃষ্টি করা হত।
হাসপাতালের এক কর্মীর অভিযোগ, দালালদের দৌরাত্ম্যে চিকিৎসা করাতে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিষেবার নামে মোটা টাকা নেওয়ার অভিযোগও ছিল। মর্গে ময়নাতদন্ত করানো এবং রিপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও টাকা চাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি।
হাসপাতালের এক কর্মীর অভিযোগ, মর্গের একাংশ কর্মীর প্রতিরোধ ও হুমকির কারণে কর্তৃপক্ষ অতীতে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল। তবে দুর্নীতি দমন শাখার অভিযানে এক ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। এখন টাকা চাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক থাকবে বলেই মনে করছেন হাসপাতালের একাংশ।
সব মিলিয়ে, দুর্নীতি দমন শাখার অভিযানের পর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘দালালরাজ’ ও টাকা নিয়ে হয়রানি বন্ধ হবে বলে আশা করছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা।