


সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: আর জি কর কাণ্ডের রেশ ধরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ধীরে ধীরে তা স্বাভাবিক হতেই ফের অশান্তির বাতাবরণ এনবিএমসিতে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ অনুমতি ছাড়া লেকচার থিয়েটার হলে দেখানো নিয়ে এক ছাত্রকে শোকজ করেছেন ডিন ডাঃ অনুপমনাথ গুপ্তা। তাতেই ঘৃতাহুতি। দু’টি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে ছাত্ররা। তাদের একদল ডিনের পক্ষে।
সেই ছাত্রদের বক্তব্য, দায়িত্ব বলে ডিন একজন ছাত্রকে শোকজ করতেই পারেন। সেই ছাত্র এসে তার ব্যাখ্যা দিলে কোনও সমস্যা হতো না। আর একপক্ষ, শোকজ করার প্রতিবাদে ডিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। এতেই নতুন করে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে।
প্রশ্ন উঠেছে, এক ছাত্রকে শোকজ করা নিয়ে এই অশান্তি, না এর পিছনে অন্য অঙ্ক রয়েছে? মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক চিকিৎসকদের একাংশের ধারণা, এটি বড় কোনও নাটকের হাতিয়ার হতে পারে। এর পিছনে অনেকেই অন্য অঙ্ক দেখছেন। এক অধ্যাপক চিকিৎসক বলেন, লেকচার থিয়েটার ব্যবহারের অনুমতি দেননি ডিন। ছাত্রদের দাবি, প্রিন্সিপালের সঙ্গে টেলিফোনের কথার ভিত্তিতেই তারা লেকচার থিয়েটার হল ব্যবহার করেছেন। সে ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল কলেজের নিরাপত্তাকর্মী ও একজন চিকিৎসককে দিয়ে এই ব্যবস্থাকে করিয়েছেন। তাহলে এই প্রক্রিয়া ডিনকে আড়ালে রেখে কেন করা হল, বিষয়টি তাঁর জানা থাকলে ওই ছাত্রকে ডিনের শোকজ করার প্রশ্ন আসত না। ডিন শোকজ করায় ছাত্রদের একাংশ কেন পাল্টা তার পদত্যাগের দাবিতে রাত পর্যন্ত ঘেরাও করবে?
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের একাংশের ধারণা, পরিকল্পিতভাবেই হয়তো ডিনকে কার্যত গুরুত্বহীন করে সবটা করা হয়েছে। আর এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কেউ কেউ হয়তো নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছেন। এই ঘটনার পিছনে ডাঃ অনুপম নাথ গুপ্তাকে সরিয়ে কোনও প্রভাবশালী অধ্যাপক চিকিৎসকের ডিন হওয়ার চেষ্টার দিকটি অস্বীকার করতে পারছেন না চিকিৎসকদের একাংশ। অনেকেই মনে করছেন, এই ষড়যন্ত্রে একদল ছাত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে হয়ত।
আবার অনেকে মনে করছেন, আর জি কর কাণ্ডের সময় নানা অভিযোগে কোনঠাসা হয়ে পড়া ছাত্ররা আবার স্বমহিমায় ফিরতে চাইছেন। সেকারণেই অস্তিত্ব জানান দিতে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছিল। এই জটিলতায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের পরিবেশ আগামীদিনে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবক, চিকিৎসক সকলে। তা বুঝতে পারছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক। তিনি বলেন, প্রিন্সিপাল ছুটিতে রয়েছেন। তিনি এলে গোটা বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনায় বসা হবে। প্রয়োজনে কলেজ কাউন্সিলের মিটিং হবে এনিয়ে। আলোচনা করেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি কখনোই কাম্য নয়।