ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: গ্লোবাল ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হচ্ছে দার্জিলিং। সেইসঙ্গে কেন্দ্রের বিপুল বরাদ্দে সেজে উঠবে মিরিক ও কালিম্পং। রবিবার শিলিগুড়িতে বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলনে এমনটাই ঘোষণা করলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে পর্যটন শিল্প। আগের সরকারের আমলে ট্যুরিজমের প্রসারে কোনো কাজ হয়নি। ফলে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমরা রাজ্যের পর্যটনকে নয়া দিশা দেখাতে কাজ শুরু করেছি। সুন্দরবনে যেমন গ্রিন ট্যুরিজমে জোর দেওয়া হয়েছে, তেমনই দীঘা ও মন্দারমণিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে মেরিন ট্যুরিজম। দার্জিলিংয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে ইকো অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে। লিটারেচার সার্কিট নিয়েও ভাবছি আমরা।’
প্রতিটি রাজ্যে অন্তত একটি করে ওয়ার্ল্ড ক্লাস ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন থাকুক, এমনটাই স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তা বাস্তবায়নে জোরকদমে কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। পর্যটনমন্ত্রীর দাবি, ‘কেন্দ্রের সহযোগিতায় আমরা পাহাড়ের রানি দার্জিলিংকে গ্লোবাল ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসাবে গড়ে তুলব। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। দার্জিলিংকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে কেন্দ্র সবরকম সহযোগিতা করবে বলে কথা দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে পাহাড়ের নয়া ডেস্টিনেশন হিসাবে মিরিক ও কালিম্পংকে যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা যায়, সেব্যাপারেও কেন্দ্র সর্বতোভাবে সাহায্য করবে।’
ইতিমধ্যে মিরিক নিয়ে রাজ্যের কাছে ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট চেয়েছে পর্যটন মন্ত্রক। মন্ত্রী বলেন, ‘ডিপিআর তৈরি করছি। মিরিক লেকের সৌন্দর্যায়ন সহ বেশকিছু অ্যাক্টিভিটি চালু হবে সেখানে। তৈরি হবে পর্যটনের পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো। প্রথম পর্যায়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে মিরিকের জন্য ১০০ কোটি টাকা পাব। তবে গোটা প্রকল্প শেষ করতে আরও তিনগুণ বেশি অর্থ খরচ হবে। আশা করি, পুজোর আগেই মিরিকে কাজ শুরু করা যাবে।’
পর্যটকদের মুশকিল আসানে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে এদিন হেল্পলাইন চালু করা হয়। সেটির উদ্বোধন করেন পর্যটনমন্ত্রী। হেল্পলাইন নম্বরটি হল, ৯৮০০২৪২৪২৬। পর্যটকরা বেড়াতে এসে কোনোরকম সমস্যায় পড়লে কিংবা জুলুমবাজি বা হেনস্তার শিকার হলে হেল্পলাইনে ফোন করলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা।