Bartaman Logo
১৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জনস্রোতে ভেসে মনোনয়ন

‘বাড়িয়ে দাও তোমার হাত/আমি আবার তোমার পাশেই হাঁটতে চাই।’ অনুপম রায়ের গানের লাইনগুলি যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিল ভবানীপুর! গণতন্ত্রের উৎসবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পায়ে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ। জনস্রোতে ভেসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী।

জনস্রোতে ভেসে মনোনয়ন
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বাড়িয়ে দাও তোমার হাত/আমি আবার তোমার পাশেই হাঁটতে চাই।’ অনুপম রায়ের গানের লাইনগুলি যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিল ভবানীপুর! গণতন্ত্রের উৎসবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পায়ে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ। জনস্রোতে ভেসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। নেত্রীর ভাষায়, ‘গণতন্ত্রের পথে গণদেবতার সাথে।’

Advertisement

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে  বুধবার এক নয়া সন্ধিক্ষণের জন্ম হল। মমতা আর জনতার যুগবলবন্দিতে মনোনয়নেই রচিত হল ইতিহাস! ভবানীপুরের আম নাগরিক বুঝিয়ে দিলেন, ‘ঘরের মেয়ে’ মমতাকে বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে যোগ্য সংগত করতে তাঁরা প্রস্তুত। কালীঘাটের বাড়ি থেকে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত মমতার সঙ্গে হাঁটলেন সব বয়সের, সব ধর্মের অজস্র মানুষ। মমতা যখন হাত তুলে নমস্কার জানালেন, রাস্তার দু’ধারে সারিবদ্ধ জমায়েত প্রতি নমস্কারে জানিয়ে দিলেন, তাঁরা আছেন ‘দিদি’র সঙ্গেই। মানুষের সঙ্গে তাঁর এই রসায়ন, এই অকৃত্রিম বন্ধনই যে মমতার ইউএসপি! তাই বাড়ি থেকে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথ মুখরিত হয়ে থাকল শঙ্খ ও উলুধ্বনি, পুষ্পবৃষ্টি আর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সোচ্চার স্লোগানে। যাত্রাপথের পাশে ঝোলানো বিশাল হোর্ডিং, ব্যানারও জানান দিয়েছে তৃণমূলের রাজনৈতিক বার্তা—‘আজান-শঙ্খে ধ্বনিত হোক সম্প্রীতির সুর/ ঘরের মেয়ের প্রহর গুনছে আবার ভবানীপুর’। সকাল  ১০টা ৫৪ মিনিটে সার্ভে বিল্ডিংয়ে ঢোকেন মমতা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রস্তাবক হিসাবে ছিলেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ। ছিলেন ইসমত হাকিম, বাবলু সিং, নিশপাল সিং রানে ও মীরজ শাহ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্বে কমিশন নিযুক্ত আধিকারিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন মমতা। সবাইকে বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আবার দেখা হবে।’ 
সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে প্রত্যয়ী কণ্ঠে মমতা জানিয়ে দেন, ‘আমি এখানে ৩৬৫ দিন থাকি। এটা আমার কর্মভূমি। ভবানীপুরের মানুষকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আমি এই আসনে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছি। আর বাংলার মানুষের কাছে ২৯৪টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আবেদন করছি। আমি নিশ্চিত যে আমরাই সরকার গঠন করব।’
তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে তিনি মর্মাহত। বলেছেন, ‘আমি ব্যথিত। ১ কোটি ২০ লক্ষের মধ্যে মাত্র ৩২ লক্ষ মানুষের নাম উঠেছে। এটাও সম্ভব হয়েছে, আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলাম বলে। প্রথম দফায় বাদ দেওয়া ৫৮ লক্ষ ভোটারের বিষয় তো খোলাই হয়নি। কোনো মৃত ব্যক্তি বা ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম বাদ হতে পারে। আরও ২৭ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ ঝুলিয়ে রেখেছে। সবটা নিষ্পত্তি করে প্রত্যেকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। এটা আমরা সুপ্রিম কোর্টেও তুলে ধরব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ