নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এবছরও মুর্শিদাবাদ জেলার কোনও পড়ুয়ার ঠাঁই হল না মাধ্যমিকের রাজ্য মেধা তালিকায়। হতাশ জেলার শিক্ষামহল। এ বছর জেলায় প্রায় ৯০ হাজার পড়ুয়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল। জেলায় পাশের হার ৭৯.০২ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ২০.৯৮ শতাংশ পড়ুয়া। জেলা ভিত্তিক মেধা তালিকায় প্রথম স্থানে আছে তিন পড়ুয়া। রাজ্যের মেধা তালিকায় ১৪তম স্থানে আছে তারা। গোরাবাজার ঈশ্বরচন্দ্র ইনস্টিটিউটের পড়ুয়া সৌম্যদীপ বিশ্বাস, চুঁয়াপুর বিদ্যানিকেতনের ছাত্রী ডোনা পাল এবং বহরমপুর গার্লস মহাকালী পাঠশালার পড়ুয়া ঋষিলা কবীর। তিনজনই পেয়েছে ৬৮২ নম্বর। ৬৮১ নম্বর পেয়ে জেলার মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দুই পড়ুয়া। আর ৬৮০ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থানেও দুজন।
ঋষিলা বড় হয়ে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চায়। তার কথায়, অবসর সময় গান করতে এবং গান শুনতে ভালোবাসি। ধরাবাঁধা রুটিন মেনে পড়িনি।
ডোনা বলে, আমার এই ফলের পিছনে বাবা এবং মায়ের বড় অবদান রয়েছে। আমি খুব বেড়াতে ভালোবাসি। গল্পের বই পড়তেও খুব ভালোলাগে। মহাকালী পাঠশালার প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুন বলেন, ঋষিলা পড়াশোনায় যেমন ভালো, তেমনি সংস্কৃতি চর্চায়ও ওর অসম্ভব আগ্রহ। ব্যবহারও অত্যন্ত ভালো। আমাদের ২০৯ জন রেগুলার পরীক্ষার্থীর সবাই পাশ করেছে।
সৌম্যদীপ বলে, দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা মন দিয়ে পড়েছি। সাতটি বিষয়েই গৃহশিক্ষক ছিল। এখন লক্ষ্য উচ্চ মাধ্যমিক। রাজ্যের মেধা তালিকায় সেরা দশে নাম না থাকলেও আক্ষেপ নেই। যতটা আশা করেছিলাম সেটাই পেয়েছি। ছেলের এই রেজাল্টে আনন্দিত সৌম্যদীপের মা, বাবাও। বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন তার। সৌম্যদীপ ছাড়াও গোরাবাজার আইসিআই স্কুলের আরও সাত পড়ুয়া জেলার প্রথম দশজনের মধ্যে স্থান করেছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিস সরকার বলেন, সৌম্যদীপ পড়াশোনায় খুব ভালো। ওর ব্যবহারও খুব ভালো। আমাদের সমস্ত কৃতী পড়ুয়াদের শুভেচ্ছা জানাই।
চুঁয়াপুর বিদ্যানিকেতন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিল্পী সেন বলেন, আমাদের ছাত্রী ডোনা পাল মাধ্যমিকে জেলায় প্রথম হয়েছে। রাজ্যে চতুর্দশ হয়েছে ও। আমাদের ১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে। ছাত্রীদের সাফল্যে মন আনন্দে ভরে যায়। আমাদের ছাত্রীদের মেধা, যোগ্যতা আর আমার সকল সহকর্মীর নিষ্ঠা, দক্ষতা ও স্কুলের প্রতি ভালোবাসা এই ফল এনে দিয়েছে। তবে মেধা তালিকায় জেলার কোনও পড়ুয়া স্থান না পাওয়ায় হতাশ তিনি। শিল্পী দেবী বলেন, সার্বিক ফলাফল খারাপ। অনেক বেশি সংখ্যক পড়ুয়ারা পরীক্ষায় বসছে, কিন্তু মেধা তালিকায় কারও ঠাই হচ্ছে না। এতে স্বাভাবিকভাবে হতাশ আমরা।