Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুল খোলার লোক নেই, ‘স্বেচ্ছাশ্রমে’ গ্রুপ ডি কর্মীর জন্য বিজ্ঞাপন ডেবরার হাইস্কুলের

ডেবরার পাঁচগেড়িয়া হাইস্কুলে স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রুপ ডি কর্মী প্রয়োজন। গত এক বছরে কর্মী নেই, পড়ুয়াদের জন্য জরুরি। বিস্তারিত পড়ুন।

স্কুল খোলার লোক নেই, ‘স্বেচ্ছাশ্রমে’ গ্রুপ ডি কর্মীর জন্য বিজ্ঞাপন ডেবরার হাইস্কুলের
  • ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: বিদ্যালয়ের নিত্যকর্ম সম্পাদনের জন্য স্বেচ্ছায় শ্রমদানকারী গ্রুপ-ডি কর্মী প্রয়োজন। সহৃদয় ব্যক্তিকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিদ্যালয় অফিসে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। ডেবরার একটি স্কুলের এমনই বিজ্ঞাপন ঘিরে শোরগোল পড়েছে সমাজমাধ্যমে। সেই বিজ্ঞাপনের ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। শনিবার ডেবরার পাঁচগেড়িয়া হাইস্কুলের তরফে এই বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সেই বিজ্ঞাপনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে স্কুলের অনেক প্রাক্তনী ও অভিভাবক লিখেছেন, এই যুগে যখন একটা সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছাশ্রম! এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নিতান্ত বাধ্য হয়েই এই বিজ্ঞাপন। সোমবার থেকে স্কুল খোলার মতো কেউ নেই। পড়ুয়াদের কথা ভেবেই এই আবেদন জানানো হয়েছে।পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিআই অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল পাঁচগেড়িয়া হাইস্কুল নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরে অনেক স্কুলেরই এমন দুরবস্থা। গত একবছর ধরে ওই সমস্ত স্কুলে কোনো গ্রুপ-ডি কর্মী নেই। বহু স্কুলে গ্রুপ-সি কর্মীও নেই। গতবছর এপ্রিল মাসে আদালতের রায়ে চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই এই অবস্থা। অগ্যতা প্রধান শিক্ষক এবং সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরই স্কুলের দরজা খোলা থেকে ঘণ্টা বাজানোর কাজ করতে হচ্ছে। তাঁরা কেন্দ্রের বিদ্যাঞ্জলি পোর্টালের মাধ্যমে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন জানাচ্ছেন। 

Advertisement

পাঁচগেড়িয়া হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয়কৃষ্ণ মিস্ত্রি রবিবার জানান, ডিআই এবং এসআই(প্রশাসক)-এর সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে তাঁরাও ওইভাবেই আবেদন জানাবেন। আপাতত আপদকালীন পরিস্থিতি সামলাতেই এমন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তিনি এও জানান, গত একবছর ধরেই স্কুলে স্থায়ী গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মী নেই। একজন বয়স্ক ক্যাজুয়াল স্টাফ ছিলেন। তিনি গ্রুপ-ডির কাজগুলি করে দিতেন। শনিবার তিনিও জানিয়ে দিয়েছেন, অসুস্থতার কারণে আর আসতে পারবেন না।বিনয়বাবু বলেন, বড়ো রাস্তার পাশেই আমাদের স্কুল। প্রায় ৬০০ ছাত্রছাত্রী। সাড়ে ১০টার আগেই ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে পৌঁছে যায়। তাই সোমবার স্কুল খোলা না হলে, তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। এদিকে-ওদিক চলে যাবে। সেজন্যই এই সাহায্য চেয়েছি। একজন সহৃদয় ব্যক্তি ইতিমধ্যেই সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইমুড়ি নেতাজী সুভাষ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ জানা, পিংবনি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রলয় বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ জানান, গত একবছর ধরে তাঁদের স্কুলেও কোনো গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মী নেই। ঘণ্টা বাজানো থেকে কম্পিউটারের সব কাজ তাঁদেরই করতে হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিআই অমিত রায় বলেন, আদালতের রায়ের পর অনেক স্কুলেই এই মুহূর্তে গ্রুপ-সি, ডি কর্মী নেই। তবে, অনুকম্পাজনিত কারণে বেশ কয়েকজনকে সম্প্রতি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। ওই গ্রাউন্ডে আরও অনেকের নামই পাঠানো আছে। নতুন নিয়োগের আগে আপাতত তাঁরা যোগদান করলে, কিছুটা সমস্যার সমাধান হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ