ভোপাল: দেশের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি বাঘের বসত মধ্যপ্রদেশে। চিতাবাঘ সংরক্ষণের দিক দিয়েও প্রথম স্থানে এই রাজ্য। এখানেই শেষ নয়, মধ্যপ্রদেশের ঘন জঙ্গলে বৈচিত্রময় প্রাণীর বাস। কিন্তু পশু ও মানুষের ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষে দেখা দিয়েছে সংকট । চলতি বছরের প্রথম আটমাসে বন্যপশুর আক্রমণে কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যে মানুষের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৪৫টি বাঘের। মধ্যপ্রদেশ বনদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সবথেকে বেশি ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বাঘের হানায়। এছাড়া বন্য শুকরের আক্রমণে ৮ জন, হাতির আক্রমণে ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। সেইসঙ্গে বিপন্নপ্রায় স্লথ বিয়ারের হামলাতে ৪ জন এবং চিতাবাঘের আক্রমণে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যপ্রাণীদের আক্রমণে মৃতদের মধ্যে ১৬ জনই মহিলা।
মানুষের উপর বন্যপশুদের আক্রমণের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে শঙ্কিত পশু বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বিশ্লেষণ, হামলা ক্রমশ বাড়ছে। মার্চে সাতজন, এপ্রিলে ১৩ জন এবং মে মাসে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কেন হামলা বাড়ল? বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দুপাতা বা মহুয়া ফুল সংগ্রহের জন্য বনে প্রবেশ করেন স্থানীয়রা। তখনই বন্য পশুদের সঙ্গে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তাছাড়া হাতি সহ বণ্যপ্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্রের মধ্যেই কৃষিকাজ, হাইওয়ে, রেল লাইন বসানোর মতো পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। আর এতেই পশু-মানুষ সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
সংরক্ষণের সাফল্যের মধ্যেও এই সংঘর্ষের বীজ নীহিত রয়েছে। ২০২২ সালে ৭৮৫টি বাঘ ছিল মধ্যপ্রদেশে। এখন রাজ্যে হাজারেরও বেশি বাঘ রয়েছে বলে অনুমান। বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিচরণ ক্ষেত্র বাড়েনি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের বিচরণের জন্য ৫০ থেকে ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রদেশের ন’টি ব্যাঘ্র সংরক্ষিত এলাকার কোর এবং বাফার জোন মিলিয়ে মোট আয়তন ১৬ হাজার ২৩৩ বর্গ কিলোমিটার। তবে প্রশাসন নির্দিষ্ট সীমানায় বাঘেদের অনেক সময়ই আটকে রাখা যায় না। কারণ অনেক সময়ই দেখা যায়, কম বয়সি বাঘেদের এলাকাছাড়া করে প্রাপ্তবয়স্করা। তখন খাবারের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে কম বয়সি বাঘ। মৃতদের ক্ষতিপূরণের পিছনেও মধ্যপ্রদেশ সরকারের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ মোট পাঁচটি অর্থবর্ষে ৮৮ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।