রেট চার্ট নেই, রাত বাড়লেই সাঁতরাগাছি  স্টেশনে পার্কিং ফি’র নামে তোলাবাজি!
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পার্কিংয়ের নির্ধারিত রেট চার্ট নেই। ফলে সন্ধ্যা নামলেই গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ইচ্ছামতো টাকা তোলার অভিযোগ উঠছে সাঁতরাগাছি স্টেশনে। কখনও ২০০, কখনও ৩০০, এমনকি ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকার করলে পার্কিং কর্মীদের সঙ্গে গাড়িচালক ও যাত্রীদের বচসা হচ্ছে। তা গড়াচ্ছে হাতাহাতি, মারামারি পর্যন্ত। অথচ রেলের আওতাধীন এই এলাকায় বিবাদ থামাতে রেল পুলিশের দেখা মেলে না বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে বারবার ছুটতে হচ্ছে স্থানীয় জগাছা থানার পুলিশকে। রেল পুলিশের এলাকার ঝামেলা সামলাতে গিয়ে কার্যত নাকানিচোবানি খাচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশ।

Advertisement

সাঁতরাগাছি স্টেশনের সামনে বাঁদিকের অংশটি পার্কিংয়ের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে লিজ দিয়েছে রেল। আগে স্টেশনের বাঁদিকে পিছনের অংশে অ্যাপ ক্যাবের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট থাকলেও বর্তমানে সেখানে পরিকাঠামো বৃদ্ধির কাজ চলছে। অভিযোগ, নতুন পার্কিং লটে আজ পর্যন্ত নির্ধারিত রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পার্কিং কর্মীদের একাংশের দাবি, চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে দু’ঘণ্টার ভাড়া ৬০ টাকা। আবার তাঁদেরই অন্য অংশের বক্তব্য, বড়ো গাড়ির জন্য দু’ঘণ্টায় ২১০ টাকা। অথচ গাড়িচালকদের অভিযোগ, একেক সময় একেক রকম টাকা দাবি করা হচ্ছে। কখনও ২০০, কখনও ৩০০, কখনও আবার ৫০০ টাকা! পার্কিংয়ের রসিদ চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় একটি সিন্ডিকেট চক্র মাথাচাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ গাড়িচালকদের। সপ্তাহ দেড়েক আগে রাতের দিকে একটি গাড়ির পার্কিং বাবদ ৫০০ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। তা নিয়ে চালকদের সঙ্গে কর্মীদের বিবাদ চরমে উঠলে জগাছা থানায় খবর যায়। এক আধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মীদের সতর্ক করার পাশাপাশি বিষয়টি রেল পুলিশকে জানাতে বলেন। কিন্তু পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি।
হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিকের বক্তব্য, রেলের এলাকায় পার্কিং নিয়ে ঝামেলা মেটাতে বারবার তাঁদের যেতে হচ্ছে। অথচ বিষয়টি রেল পুলিশের দেখার কথা। ইতিমধ্যে জিআরপির সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। পার্কিং সংস্থাকে নির্ধারিত রেট চার্ট এবং সহায়তার জন্য রেল পুলিশের ফোন নম্বর-সহ চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর হয়নি। দূরপাল্লার ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীদেরও এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত পার্কিং ফি’র বোঝা গাড়িচালকরা তাঁদের ভাড়ার উপর চাপাচ্ছেন। দীর্ঘ যাত্রার পর স্টেশনে নেমে এই হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।