তেহরান: ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ। ওদের সঙ্গে আলোচনা করে লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না’— বুধবার সকালে স্পষ্ট ভাষাতেই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শীঘ্রই আরও বড়োসড়ো আঘাত হানার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। আর রাতেই প্রেসিডেন্টের কথা সত্যি করে হামলা চালাল আমেরিকা। ইরানের শহর বন্দর আব্বাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। যদিও তেহরানের দাবি, বেশিরভাগ মিসাইলই তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম গলে মাটিতে আছড়ে পড়তে পারেনি।
মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিম এশিয়ার আকাশে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনাতে শুরু করে। ওইদিন হরমুজ প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর বিরুদ্ধে। বড়ো মাপের ক্ষতি হয় দু’টি জাহাজের। পালটা হামলা চালায় মার্কিন সেনাও। ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, উপকূলের রেডার ব্যবস্থা সহ ইরানের ৮০টি জায়গায় হামলার কথা জানায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সহযোগী দেশগুলিকে টার্গেট করে তেহরান। আইআরজিসি বাহরিন ও কুয়েতে ৮৫টি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করে। এর মধ্যে রয়েছে বাহরিনের শেখ ইসা এয়ারবেসও। তেহরানের এই হামলার নিন্দায় সরব কুয়েত সহ অন্যান্য দেশ।
এর মধ্যেই বুধবার তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় সব কিছু শেষ। ওদের (ইরান) সঙ্গে আলোচনা চালানো মানে সময় নষ্ট করা। মধ্যস্থতাকারীরা চাইলে আলোচনা চালাতে পারেন। তবে কিছু লাভ হবে বলে মনে হয় না।’ ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেই বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটাই চড়েছে। একই সঙ্গে হুমকির সুরে ট্রাম্প জানান, ইরানের জল পরিশোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র সহ অসামরিক পরিকাঠামোতে হামলা চালাবে আমেরিকার। সেইসঙ্গে খাড়্গ দ্বীপ দখল করে নেওয়ার কথাও শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
নতুন করে উত্তেজনার জন্য ইরান অবশ্য আমেরিকার দিকেই আঙুল তুলেছে। তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ ইরানের। এই প্রসঙ্গে লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসনের কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান। পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলে যে দেশগুলি রয়েছে, তারা যাতে নিজেদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার কাজে ব্যবহার করতে না দেয়, সেব্যাপারেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইজরায়েলেও জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। বুধবার ইজরায়েল সফরে যাওয়ার কথা ছিল আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের। সেই সফর বাতিল হয়েছে। এদিকে, একটি ভারতীয় অয়েল ট্যাঙ্কার ওমান সীমান্তবর্তী করিডর দিয়ে হরমুজ প্রণালী পেরনোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাতে বাধা দেয় আইআরজিসি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, আইআরজিসি ওই জাহাজটিকে ইরানের নির্ধারিত পথ দিয়ে হরমুজ পেরনোর নির্দেশ দেয়। তার জেরে মুখ ফেরাতে বাধ্য হয় জাহাজটি। পরে ইরান নির্ধারিত পথেই জাহাজটি যাবে।