


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাঘাত করল ভারত। সরকার জানিয়ে দিল, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনেই চলেছে। এজন্য কারও অনুমতির দরকার নেই। ভারত কোথা থেকে অশোধিত তেল কিনবে সেজন্য কারও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। মার্কিন প্রশাসন শুক্রবার বলেছিল, সংকট যেন না হয় সেজন্য তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনতে ভারতকে ৩০ দিনের অনুমতি দিয়েছে। এই অনুমতি শব্দটি নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা। প্রশ্ন করা হয়েছে, মোদি সরকার আমেরিকার সব অপমান মুখ বুজে সহ্য করে কেন? আমেরিকার কাছে কি ভারত পরাধীন? না হলে আমেরিকার রাজস্ব সচিব কীভাবে বলেন যে, ভারত কোথা থেকে কতদিনের জন্য তেল কিনবে, সেটা আমেরিকার অনুমতিসাপেক্ষ? এই বিতর্ক শেষের আগে আরও এক ধাপ এগিয়ে শনিবার মার্কিন রাজস্ব সচিবের নতুন বিবৃতি, ভারতকে যা বলা হয় সেটাই করে। ভারত দ্রুত কথা শুনে কাজ করে। ভারত যে আমেরিকার খুব বাধ্য, সেটা বুঝিয়ে মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আমরা ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল না কিনতে বলেছিলাম। ভারত তাই করেছে। এখন ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দিয়ে আমেরিকার থেকে তেল কিনছে। এরপর স্কট বেসেন্ট বলেন, এবার আমরা ভারতকে অনুমতি দিয়েছি রাশিয়া থেকে তেল কেনার। আপাতত ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে ভারত তেল কিনতে পারে। স্কট বেসেন্টের এই বিবৃতির পর আবার নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছিল ভারত সরকার। কংগ্রেস শনিবার বলেছে, ভারতের বিপ্লবীরা দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম করে ভারতকে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত করেছেন। ভারত একটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়েছে ১৯৪৭ সালে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির সরকার আমেরিকার কাছে আবার ভারতকে ক্রীতদাসে পরিণত করেছে। ভারত কি আমেরিকার অধীনস্ত? আমেরিকার সরকার সরকারিভাবে এরকম কথা বলার সাহস পাচ্ছে কীভাবে? কংগ্রেস বলেছে, নরেন্দ্র মোদি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছেন। ১৪৬ কোটি ভারতবাসীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আমেরিকার অনুমতির জন্য? দুর্বল প্রধানমন্ত্রী ছাড়া এরকম অসম্মানের দিন আসা সম্ভব নয়। কংগ্রেস বলেছে, মার্কিন রাজস্ব সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী ভারত তাহলে মার্কিন সরকারের চিত্রনাট্য অনুযায়ী কাজ করছে! কিন্তু কংগ্রেসের আক্রমণকে ভোঁতা করে শনিবার ভারত সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা আমেরিকার দাদাগিরি মানতে রাজি নয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন কেন? ফেব্রুয়ারি মাস জুড়েও আমরা রাশিয়া থেকে তেল কিনেছি। কারও অনুমতির দরকার পড়েনি। আগামী দিনেও পড়বে না। এদিকে মার্কিন রাজস্ব সচিব এদিন বলেছেন, যুদ্ধের কারণে তেলের সঙ্কট হওয়ার কথাই নয়। কারণ অনুমোদিত তেল ভর্তি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই অসংখ্য জাহাজে রয়েছে। বাজারে যাতে প্রভাব না পড়ে সেজন্য রাশিয়ার তেলের উপর থেকে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।