নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাত ৮টার পরে সাধারণ পড়ুয়াসহ অন্য যেকোনো ব্যক্তির ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ানো নিষিদ্ধ করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সার্কুলার দিয়ে তারা জানিয়েছে, সান্ধ্য বিভাগগুলির পড়ুয়ারা ছাড়া কাউকে ওই সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে পাওয়া গেলে তাঁকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবেই গণ্য করবে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। সান্ধ্য বিভাগের পড়ুয়াদের রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শুধু ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ বহিরাগত নয়, ক্যাম্পাসের মাঠ এবং সংলগ্ন রাস্তায় প্রাতর্ভ্রমণ এবং বৈকালিক ভ্রমণকারীদেরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস খোলা থাকবে। তবে, সেখানে আসা সবাইকেই বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নিরাপত্তারক্ষীরা যেকোনো সময় তাঁদের পরিচয়রপত্র দেখতে চাইতে পারেন। অধ্যাপক, আধিকারিক, ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং শিক্ষাকর্মীদের গাড়ি অথবা মোটরবাইকের জন্য দেওয়া হবে বিশেষ স্টিকার। সেটা দৃশ্যমান জায়গায় সেঁটে রাখতে হবে। অন্যান্য যাঁরা বিশেষ প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে আসবেন, তাঁদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর গেটে জমা দিতে হবে। নিরাপত্তারক্ষীদের বলা হয়েছে, সন্ধ্যার পরে সান্ধ্যবিভাগের পড়ুয়ারা ছাড়া কোনো ছাত্রদের জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তারক্ষী, নাইট ইনচার্জদের বিশেষভাবে এদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের মাদকসহ ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফেস্ট বা কোনো অনুষ্ঠান চললে তা রাত ৯টার মধ্যে শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের কাছে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে। যাঁরা কোনো কারণে কার্ড পাননি, তাঁদের অন্যকোনো বৈধ পরিচয়পত্র রাখতে হবে।
সাধারণত নিরাপত্তারক্ষীরা চলাফেরা নিয়ে বেশি কড়াকড়ি পড়ুয়ারা পালটা প্রতিবাদ করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে ভয় দেখানোর অভিযোগও ওঠে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় সতর্ক করেছে, নিরাপত্তারক্ষীদের ভয় দেখালে বা তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে বিচার করা হবে। সাম্প্রতিক কালে এবিভিপি এবং বিজেপির নেতারা ক্যাম্পাসে ঢুকে রীতিমতো হামলা চালিয়েছিলেন। তারপর থেকে নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, বহিরাগতদের ঠেকানোর চেয়ে পড়ুয়াদের নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশেই এই সার্কুলার জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। একেবারে সরকার এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যা নির্দেশ আসছে, তাই মেনে চলছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। এপ্রসঙ্গে অবশ্য উপাচার্যের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।