নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: আট কিলোমিটার সড়কের কোনও বাতিস্তম্ভে নেই আলো। সূর্য ডুবলেই ঝা চকচকে এই রাস্তা আধারে মুখ ঢাকে। আশ্চর্যজনক ভাবে দৃশ্যটি খুবই প্রতীকী ও তাৎপর্যময়। যে শহরটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বিধান রায়ের স্বপ্নের শহর হিসেবে গড়ে উঠেছিল। একদা শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে উঠেছিল। সেই কল্যাণীরই প্রবেশ পথ অন্ধকার!
পিডব্লিউডি কোটি কোটি টাকা খরচ করে চওড়া সড়ক তৈরি করলেও পঞ্চায়েতের টানাপোড়েনে আটকে আলো লাগানোর কাজ।
১২ নম্বর জাতীয় সড়ক নতুনভাবে তৈরি হওয়ার পর কল্যাণীর গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাই জাতীয় সড়কের কল্যাণী মোড় থেকে মূল শহর পর্যন্ত রাস্তাটি নতুনভাবে তৈরির কাজও শুরু করে পিডব্লিউডি। ৪২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেই রাস্তা তৈরি হয়। এই রাস্তার পাশেই কল্যাণী এইমসের মতো জাতীয়স্তরের হাসপাতাল। যেখানে শুধুমাত্র নদীয়া জেলার মানুষই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেই চিকিৎসা প্রার্থীরা যাতায়াত করেন। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের জেএনএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ইএসআই হাসপাতাল কল্যাণী, গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল সহ একগুচ্ছ বেসরকারি নার্সিংহোম ও হাসপাতালও যেতে হয় এই পথ দিয়েই। এছাড়াও আইটিআই কল্যাণী, আইজার, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগও রক্ষা করে নবনির্মিত রাস্তাটি। কিন্তু বাসিন্দাদের ক্ষোভ, নতুনভাবে তৈরির পর থেকেও রাস্তায় প্রশাসন আলোর ব্যবস্থাই করতে পারেনি। রাস্তার দুই লেনের মাঝে বছরের পর বছর ধরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি বাতিস্তম্ভ। নিকষ অন্ধকারে ভরসা বলতে রাস্তার দু’ পাশে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা দোকানগুলির আলো। রাতবিরেতে ঘুটঘুটে অন্ধকার রাস্তা দিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এলাকার মানুষই বলছেন, রাস্তার ধারে বিভিন্ন জায়গায় নেশাড়ুদের আড্ডা রয়েছে। ফলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ছিনতাই বা অন্যান্য অপরাধ কর্ম ঘটে যাওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
কী কারণে এতদিনেও আলো লাগানো গেল না সেখানে? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কল্যাণী শহরের সংযোগকারী হলেও রাস্তাটি বেশিরভাগটাই গিয়েছে সগুনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে দিয়ে। তাই সেই রাস্তাতে আলোর বিপুল খরচ মিটানোর দায়িত্ব কে নেবে, তা নিয়েই স্থানীয় প্রশাসন এবং পিডব্লিউডির মধ্যে দীর্ঘ টানা পড়ে চলছে। ‹সার্ভিস কানেকশন› নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি পঞ্চায়েত বা পিডব্লিউডি কেউই। ফলে কোটি কোটি টাকার রাস্তায় লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় তৈরি বাতিস্তম্ভগুলি রোদ-ঝড়-জলে কেবল নষ্টই হচ্ছে পড়ে পড়ে। কবে সেই সমস্যা মিটবে? এ বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি পিডব্লিউডির তরফেও। অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ইলেকট্রিক্যাল) বলরাম সাহা বলেন, সমস্ত আলোই পি ডব্লিউ ডি থেকে লাগিয়ে দেওয়া হবে। সার্ভিস কানেকশনের জন্য বিষয়টি আটকে রয়েছে। আমরা আলো লাগাতে রাজি হয়েছি। কিন্তু ওই সার্ভিস কানেকশন নিয়েই সমস্যা মিটছে না।