অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং ডিএলএড কলেজগুলির টানাপোড়েন চলছেই। এবার পর্ষদের বিরুদ্ধে কলেজগুলির অভিযোগ, পরিদর্শনের ফি নিয়েও এক বছরের মধ্যে তা শেষ করতে পারেনি তারা। এদিকে, কলেজগুলিকে ২৬ এপ্রিলের মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের নাম নথিভুক্তিকরণ এবং রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পর্ষদ। সেই কারণে এবার কলেজগুলির দাবি, তাদের পরিদর্শন আগে শেষ করতে হবে। প্রসঙ্গত, এদিনই সমস্ত কলেজকে পড়ুয়া ভর্তির ‘লিঙ্ক’ পাঠিয়ে দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
গত বছর ১৭ মে পর্ষদ নির্দেশ দিয়েছিল, সব ডিএলএড কলেজ পরিদর্শন করবে তারা। এর জন্য সমস্ত অনুমোদনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, এমন প্রায় ৬৫০টি কলেজকে ২৫ হাজার টাকা করে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কলেজগুলির অভিযোগ, তারা টাকা জমা দিলেও পরিদর্শন বাকি এখনও। তাই ছাত্রভর্তি শুরু করার ভরসা পাচ্ছে না তারা। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল। তিনি বলেন, ‘পরিদর্শন সময়সাপেক্ষ। প্রায় ৪০০ কলেজে পরিদর্শন শেষ করতে পেরেছি। খুব শীঘ্রই সেই প্রক্রিয়া শেষ হবে।’ এই বিলম্বের জন্য তিনটি মূল সমস্যার কথা তুলে ধরছেন তিনি। প্রথমত, পরিদর্শন প্রক্রিয়া শুরুর মধ্যেই কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিই পারফরম্যান্স অ্যাপ্রেজাল রিপোর্ট (পার) চেয়ে পাঠিয়েছিল কলেজগুলির কাছে। এর অন্যতম অংশ ছিল কলেজগুলিকে পর্ষদের দেওয়া একটি শংসাপত্র। তাতে উল্লেখ থাকবে, যাবতীয় নিয়মনীতি মেনে, সঠিক পরিকাঠামো সহ কোর্স চালিয়ে যাচ্ছে কলেজগুলি। তাহলেই মিলবে স্বীকৃতি। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই নথি দিতেই দেড়মাস অতিক্রান্ত হয়েছে বলে পর্ষদের দাবি।
এর পাশাপাশি রয়েছে, প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের ডিএলএড কোর্সে ভর্তির ব্যবস্থা করা। আদালতের নির্দেশে এই কাজ করতে গিয়েও অনেকটা সময় গিয়েছে। এর পাশাপাশি, আদালতের নির্দেশেই করতে হয়েছে শিক্ষক বদলির কাজ। তাছাড়া, নিয়োগ এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রতিদিনই বহু মামলা হচ্ছে। সেই আইনি লড়াই লড়তেও লোকবল এবং সময় ব্যয় করতে হচ্ছে পর্ষদকে। গৌতমবাবু বলেন, ‘স্রেফ বিশ্বাসের ভিত্তিতেই আমরা কলেজগুলিকে সেই সময় শংসাপত্র দিয়েছিলাম। নাহলে কলেজগুলি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’ পরিদর্শন ফি জমা নেওয়ার পক্ষেও যুক্তি রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘কয়েকজন প্রতিনিধিকে যদি উত্তরবঙ্গের কোনও কলেজে পরিদর্শনে যেতে হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সেই ভারও আমরা বহন করছি। আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে। কলেজগুলিকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’