


সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: দুবছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পৌঁছল না গ্যাস সিলিন্ডার। শুধু ওভেন এসেছে। সিলিন্ডার না আসায় কাজে লাগছে না ওভেন। বাধ্য হয়ে উনুনেই রান্না চলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে। এখনও সিলিন্ডার না আসায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, দু’বছর আগে শিশু ও মায়েদের পুষ্টিকর খাবার রান্না করতে জেলার প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গ্যাস এবং ওভেন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুবছর পেরিয়ে গেলেও এখনও জেলার কোনও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গ্যাস সিলিন্ডার আসেনি। দক্ষিণ দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) হারিস রশিদ বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছনোর বিষয়টি প্রস্তুতি পর্বে রয়েছে। শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।
জানা গিয়েছে, জেলার আটটি ব্লক ও তিনটি পুরসভা শহরের গ্যাসের ডিলারদের কাছে গ্যাসের কানেকশনের জন্য সিকিউরিটির টাকা পৌঁছে যায় ২০২৩ সালে। যে সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশু ও মায়েদের সংখ্যা ৭০ জনের মধ্যে, সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার ও ওভেন পাঠানোর কথা জেলার তরফে। যেখানে সংখ্যাটা ৭০এর বেশি সেই কেন্দ্রে ওভেন রাজ্য থেকে পাঠানো হয়েছে। ওভেন পৌঁছে গেলেও গ্যাস সিলিন্ডার না আসায় সমস্যায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। এদিকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের অফিস খরচের টাকা থেকেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মাসিক খরচে কাঠ কিনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে জেলা প্রশাসন জেলার গ্যাসের ডিলারদের নিয়ে মিটিং করে প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গ্যাসের কানেকশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৩ সালে ডিলারদের ব্যাঙ্কের খাতায় প্রায় ২ কোটি টাকা পৌঁছে যায়। কিন্তু প্রতিটি কেন্দ্রে গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছনোর জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও লিখিত চিঠি ডিলারদের কাছে যায়নি।
বুনিয়াদপুর শহরের মৃত্যুঞ্জয় সাহা নামে এক ডিলার বলেন, আমরা গ্যাসের কানেকশনের জন্য সিকিউরিটি টাকা পেয়েছি অনেকদিন আগেই। কিন্তু কোন কোন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করতে হবে, তার চিঠি পাইনি। অর্ডার পেলেই আমরা পরিষেবা দিয়ে দেব।
গঙ্গারামপুর শহরের এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বলেন, আমরা প্রশাসনকে একাধিকবার জ্বালানি সমস্যাটি নিয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ওভেন এসেছে অনেকদিন আগে। কিন্তু সিলিন্ডার আসেনি। কবে আসবে, জানি না।