নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেল স্টেশনগুলিতে শুরু হয়েছে হকার উচ্ছেদ। বাদ যায়নি যাদবপুর স্টেশনও। হকারদের দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ ২ তারিখ জায়গা খালি করতে বলেছিল। তার আগেই রবিবার সকালে হকারদের নিয়ে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে সভা করেন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আপাতত ২ তারিখ কোনো উচ্ছেদ হবে না। ওই সভা থেকে বিজেপি নেতারা আক্রমণ করেন সিপিএমকে। হকারদের উদ্দেশে বলা হয়, তারা যেন কিছুতেই সিপিএমের ফাঁদে পা না দেন।
এদিন সকাল থেকে শর্বরীদেবীর বক্তব্য শোনার জন্য হকাররা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। আপাতত ২ তারিখে উচ্ছেদ হচ্ছে না শুনে তাঁরা স্বস্তির শ্বাস ফেলেন। শর্বরীদেবী বলেন, ‘ডিআরএম স্যারের কাছে আমরা প্রথমেই আর্জি জানিয়েছিলাম, ২ তারিখে উচ্ছেদ আটকাতে হবে। ভারতীয় রেল অত্যন্ত মানবিকভাবে বিষয়টি শুনেছে। যাদবপুর স্টেশন আধুনিকভাবে গড়ে উঠবেই। এখানে বাস-অটো স্ট্যান্ড, শৌচাগার গড়ে উঠবে। আগামী দিনে হকারদের স্থায়ী সমাধান নিয়েও আলোচনা চলবে। আপাতত ২ তারিখ উচ্ছেদ হচ্ছে না।’ তিনি জানান, যাদবপুর বিধানসভার ১০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা হকার হিসাবে অগ্রাধিকার পাবেন। গত ১৫ বছর যাঁরা তৃণমূল নেতাদের টাকা দিয়ে বসেছেন তাঁদের তালিকা দিতে হবে। তাঁরা খোলা মনে কথা বললে ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হকার উচ্ছেদ নিয়ে দিন কয়েক আগেই সিপিএম ওই এলাকায় মিছিল করেছিল। সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা বলছি হকারদের পুনর্বাসন চাই, না হলে উচ্ছেদ করা যাবে না। রাতের অন্ধকারে যখন উত্তরপাড়া, দমদমে বুলডোজার চলল সেখানেও তো বিজেপি বিধায়ক। তাঁরা কী করছিলেন? তাহলে যাদবপুর নিয়ে বলা কথা কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য হবে? তালিকা নেবেন বলছেন। কিন্তু হকারদের মধ্যে তৃণমূল-বিজেপি খুঁজছেন কেন? ওঁরা তো রুজি-রুটির টানে এসেছেন। আসলে বিজেপি যে বড়লোকদের পার্টি তা বোঝা যায়।’