শ্রীকান্ত পড়্যা, মেচেদা: দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়ে কোনো খারাপ মন্তব্য করবেন না। দরকারে আমাকে গালি দিন। সাংসদদের নিয়েও কোনো খারাপ মন্তব্য নয়। রবিবার মেচেদায় বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিশেষ সাংগঠনিক সভা ও জন প্রতিনিধি সম্মেলনে এভাবেই নেতাদের গাইড লাইন বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও বলেন, আগুন লাগানো আমাদের কাজ নয়। আগুন নেভানোই আমাদের কাজ।
তৃণমূল কংগ্রেসের তিন দলত্যাগী সাংসদকে দলীয় পতাকা ধরানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদ এবং বিধায়ক এখন জোড়াফুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে কার্যত বিজেপির কথায় ওঠবস করছেন। এসব নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। তাঁরা নিশানা করছেন দলের রাজ্য সভাপতিকে। এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজর এড়ায়নি। তাই তিনি এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, সবাই নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করুন। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী দিনে রাজ্যে বিজেপির ভোট ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ৫৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করব।
বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৭০ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক অবৈধ ওবিসি সার্টিফিকেট প্রাপক ছিলেন। ৭৮টির মধ্যে ৭২টিই একটি সম্প্রদায়ভুক্ত। ৭০ লক্ষ সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে। ওবিসি-র জন্যই সব নিয়োগ আটকে আছে। বিধানসভায় আইন পাশ হয়ে গিয়েছে। বাকি আছে সুপ্রিম কোর্টে মামলা। বিগত সরকার অবৈধ সার্টিফিকেট প্রাপকদের বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। আমরা কাল কিংবা পরশুর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সেই মামলা প্রত্যাহার করব। ছ’মাসের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর এবং শিক্ষক, অধ্যাপক ও পুলিশে এক লক্ষ নিয়োগ করব। নিয়োগে কেউ সুপারিশ করবেন না। কেউ মাথা গলাবেন না। ওএমআর-কার্বন কপি থাকবে। কোনো নিয়োগ কমিটিতে রাজনৈতিক অ্যাপয়মেন্ট হবে না। কলেজ সার্ভিস কমিশন ও স্কুল সার্ভিস কমিশনে চিফ সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে প্রশাসক করা হয়েছে। জেলাতেও আমরা সেটা করব।
এদিনের সভায় প্রাইমারি স্কুলে অবৈধভাবে ট্রান্সফার নেওয়ার শিক্ষকদের লিস্ট বানিয়ে জেলার ইন-চার্জ অনুপম মল্লিকের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, কোথায় ঘাপটি মেরে চোর তৃণমূলের লোকেরা অফিসের ভিতরে বসে আছে তাঁদেরও শনাক্ত করুন। তিনি বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গেল গেল রব করার কিছুই নেই। একটু সময় লাগবে। সবাই পাবেন। সেইসঙ্গে শুভেন্দুবাবু বলেন, যেসকল চাষি বৈদ্যুতিক পাম্প সেট চালান তাঁরা ইউনিটে দু’টাকা ছাড় পাবেন। নতুন সমুদ্রমালা-২ প্রজেক্ট আসছে। পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী ব্লকে কলেজ, কাঁথিতে পুলিশ জেলা, হলদিয়া-নন্দীগ্রাম হলদি ব্রিজ ছাড়াও অনেক কাজ হবে। আগস্ট মাস থেকে আইসিডিএস, আশাকর্মীরা পাঁচ হাজার টাকা বাড়তি পাবেন। সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, চুক্তিভিত্তিকরা দু’হাজার টাকা অতিরিক্ত পাবেন। বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এক হাজারের বদলে ১৫০০ টাকা করে পাবেন।
এদিনের বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের উপর ভরসা ও আস্থা রাখুন। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বিদ্যালয় আধুনিকীকরণের কাজ হবে। দুর্গাপুজোর আগে সব থানাকে ১১২ ডায়াল গাড়ি দেওয়া হবে। এখন পুলিশকে ফোন করলে তিন ঘণ্টা পরে রেসপন্স করে। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশে পুলিশকে ফোন করলে ছ’মিনিটে রেসপন্স করে। আমরাও এখানে ধীরে ধীরে সেই ব্যবস্থা চালু করছি। এখন একটা করে গাড়ি দেব। এক বছরের মধ্যে থানা প্রতি তিন-চারটি গাড়ি এবং উপযুক্ত কর্মী দেওয়া হবে। • নিজস্ব চিত্র