


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গ্যাস সংকট নিয়ে একই দিনে সংসদে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দু’রকম মন্তব্য। পেট্রলিয়াম মন্ত্রী বলছেন, সমস্যা নেই। আর তথ্য-সম্প্রচারমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি, দেশ সংকটে। এ পর্যন্তও দ্বিচারিতার একটা মাত্রা ছিল। কিন্তু বিকেলে দেশবাসী শুনল নতুন ঘোষণা, গ্রামাঞ্চলে ডেলিভারির ৪৫ দিন আগে রান্নার গ্যাস বুক করা যাবে না। দিশাহারা আম আদমির প্রশ্ন, তাহলে কোনটা ঠিক? সংকট যদি নাই থাকে, তাহলে গ্যাস বুকিং নিয়ে এত নিয়ন্ত্রণ কেন?
এই প্রবণতা অবশ্য মোদি সরকার গত কয়েকদিন ধরেই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকবার যখন কেন্দ্রের কোনো মন্ত্রী বা সচিব গ্যাস সংকট না থাকার দাবি করছেন, তার ঠিক পরই জারি হচ্ছে নয়া নিয়ম। গাইডলাইন। নিয়ন্ত্রণ। ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক গ্যাস নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা শুরু হয়ে গিয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রণ চলছে। শহরে ৩০ দিনের আগে ডবল সিলিন্ডারের বুকিং নেওয়া হচ্ছে না। তার উপর গ্রামের জন্য এই ৪৫ দিনের নির্দেশ। ক্ষোভ বাড়ছে। সংসদেও বৃহস্পতিবার স্টিলের হাতা, খুন্তি, কড়াই বাজিয়ে লোকসভার ওয়েলের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড। পরে সংসদ চত্বরে সিলিন্ডারের কাট আউট নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। লোহার কড়াইয়ের নীচে কাঠের প্রতীকী জ্বালানি দিয়ে রান্নার পাশাপাশি দিনভর স্লোগান উঠেছে, মোদিজি/এলপিজি, নরেন্দর ভি গায়েব/সিলিন্ডার ভি গায়েব। সরকার যে এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছে, তাতে সংশয় নেই। আর তাই বিক্ষোভের মুখে লোকসভায় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বললেন, ‘বিশ্বে বড়ো সমস্যা শুরু হয়েছে। আজ এমনই একটা পরিস্থিতি যে, সব রাজনৈতিক দলকে একজোট হয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ তারপরও অবশ্য বিক্ষোভ থামেনি।
তাৎপর্যপূর্ণ অবশ্য পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর মন্তব্য। তিনি বলছেন, ‘জ্বালানির জোগানে সমস্যা নেই। যথেষ্ট মজুত আছে। তেল সংশোধনাগারগুলি সক্রিয় রয়েছে। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ সীমা ছাপিয়ে কাজ করছে সংশোধনাগারগুলি। হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা চলছে ঠিকই। কিন্তু তার জন্য বিকল্প পথ দিয়ে অপরিশোধিত তেলের আমদানি ৫৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালে ভারত ২৭টি দেশ থেকে তেল কিনত। এখন সংখ্যাটা বেড়ে ৪০।’ নজর করার মতো বিষয় হল, এ পর্যন্ত মন্ত্রী একবারও গ্যাসের কথা বলেননি। তারপরই তাঁর মন্তব্য, ‘প্যানিক বুকিংয়েরই জন্যই সংকট তৈরি হয়েছে গ্যাসের। তাই শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় ৪৫ দিন অন্তর বুকিং নেওয়ার নির্দেশ গিয়েছে।’
বিরোধীদের তোপ, তার মানে যাবতীয় সমস্যার দায় জনতার উপর চাপানো হল? প্রকৃত পরিস্থিতি লুকোচ্ছে সরকার? সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়েই রাহুল গান্ধীর হুঁশিয়ারি, ‘সামাল দেওয়ার রাস্তা না খুঁজে সমস্যা আড়াল করতে চাইলে কিন্তু ভয়ংকর বিপদে পড়বে কেন্দ্র।’ আর পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে কেরোসিন নিয়ে বিজ্ঞপ্তি কেন? কারণ এদিনই কেন্দ্র জানিয়েছে, রেশন দোকানের মাধ্যমে দেওয়া হবে কেরোসিন তেল। গোটা দেশের জন্য অতিরিক্ত ৪৮ হাজার ২৪০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ হয়েছে। লিটার প্রতি ৬৪-৬৭ টাকা মূল্যে তা বিক্রি হবে। কয়লার ক্ষেত্রেও একইরকম নির্দেশ জারি হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন, উজ্জ্বলা যোজনায় দূষণমুক্ত রান্নার গ্যাসের প্রচার করলেও আদতে কি সেই কেরোসিন, কয়লার জ্বালানিতেই ফিরতে চাইছে মোদি সরকার?