


সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা এলাকায় জিরো পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে ঘিরে সম্প্রতি উত্তেজনা তৈরি হয়। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে উন্মুক্ত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য মাপজোকের কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন বিজিবি প্রধান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর একটি পুরনো বক্তব্য। ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, ২০১০ সালের তিনবিঘা চুক্তি অনুযায়ী করিডর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা সীমান্তে শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়েও সম্মতি দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর থাকার কারণে আইনত সেই বেড়া নির্মাণে বাধা দেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের নেই।
এ প্রসঙ্গে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় জানিয়েছেন, সীমান্তের সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো প্রকার আপোশ করা হবে না। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনবিঘা চুক্তি, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তুতি ঘিরে সম্প্রতি উত্তেজনা ছড়ায় তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন এলাকায়। জমি মাপজোকের কাজ শুরু হতেই আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিংও অনুষ্ঠিত হয়। সাময়িকভাবে কাজ ব্যাহত হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার ফের নির্বিঘ্নে জমি মাপজোকের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোট পাঁচটি এলাকায় এই মাপজোকের কাজ চলে বলে জানা গিয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য মোট ১০৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন। তার মধ্যে প্রায় ৮০ একর জমি রয়েছে দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা এলাকায়। মূলত এই এলাকাতেই বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় দ্রুতগতিতে কাজ এগোচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।