Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাস্তায় বাস নেই, বাড়তি ভাড়ায় ‘ত্রাতা’ অটো

বাসের দেখা নেই রাস্তায়। বুধবার ছিল রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ।

রাস্তায় বাস নেই, বাড়তি ভাড়ায় ‘ত্রাতা’ অটো
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাসের দেখা নেই রাস্তায়। বুধবার ছিল রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। এদিনও কাজের সূত্রে যাঁদের বাইরে বেরতে হয়েছিল, রাস্তায় বাস প্রায় না থাকায় বিস্তর দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাঁদের। বাস না থাকায় ‘ত্রাতা’র ভূমিকায় দেখা গিয়েছে অটোকে। তবে এই সুযোগ অটোগুলি পুরোপুরি উসুলও করে নিয়েছে! উল্টোডাঙা হোক বা কাঁকুড়গাছি, দমদম থেকে এয়ারপোর্ট এক নম্বর কিংবা যাদবপুর-টালিগঞ্জ-রানিকুঠি—সর্বত্র বড়ো রাস্তা থেকে অলিগলিতে দাপিয়ে চলেছে অটো।  কিছু সরকারি বাস অবশ্য ছিল। তবে চাহিদার তুলনায় তা সামান্যই। ফলে রাস্তায় এসে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে নিত্যযাত্রীদের। কোথাও কোথাও যাত্রীদের বেশ ভিড়ও জমে যেতে দেখা যায়। বাসের তুলনায় অটো বেশি থাকলেও অটোস্ট্যান্ডগুলিতে অন্যান্য দিনের তুলনায় গাড়ি কমই ছিল। ফলে সেখানেও যাত্রীদের লম্বা লাইন নজরে এসেছে। সুযোগ বুঝে কোপ মেরেছেন অনেক অটোচালক। দমদমের বাসিন্দা শচীন রায় বলছিলেন, ‘অটো কম আছে। তাই সকালে নাগেরবাজার থেকে দমদম স্টেশন যাওয়ার জন্য অটো স্ট্যান্ডে প্রায় ২৫-৩০ জনের লাইন পড়েছিল। কিছু অটো স্ট্যান্ডে না এসে একটু আগে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে নিচ্ছিল।’ তাঁর আরও অভিযোগ, দমদম স্টেশন যাওয়ার জন্য ২০ টাকা করে ভাড়া চাইছিলেন অটোচালকরা। একই চিত্র দেখা গিয়েছে উল্টোডাঙা স্টেশন চত্বর বা হাডকো মোড়েও। সৌমিতা ভট্টাচার্য, ঋষভ ঘোষ সহ অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসস্ট্যান্ডে। কাজে যাওয়ার জন্য পথে বেরিয়ে রীতিমত নাকাল হতে হয়েছে অনেককে। এমনকি, যে রুটে অটো চলে না, এমন রুটেও রিজার্ভ করে ‘সার্ভিস’ দিয়েছেন অটোচালকরা। কাঁকুড়গাছি অঞ্চলের অটোচালক সঞ্জু কর্মকার বলেন, ‘আমাদের লাইনের যত গাড়ি ছিল, সবাই সকাল সকাল ভোট দিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। কেউ কেউ পালা করে অটো চালিয়েছে। অন্যরা সেই ফাঁকে ভোট দিয়ে এসেছে। না হলে সামলানো যেত না। কারণ রাস্তায় বাস প্রায় নেই বললেই চলে।’ এই সুযোগে অনেক অটো অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও যাত্রীরা তা নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ করছেন না। শোভাবাজার মেট্রোর সামনে এক অটো যাত্রী বলেন, ‘আজকে তো অটো ছাড়া কোনো গতি নেই। কারণ, বাস প্রায় নেই। ভোটের জন্য রাস্তায় নামেনি। সরকারি বাসেরও দেখা নেই। সেখানে অটোই একমাত্র উপায়। তার জন্য যদি পাঁচ-দশ টাকা বেশি নেয় এই একটা দিন, খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’ অটোর জন্যই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষারত অনেকে। তবে নিত্যযাত্রীরা বলছেন, এভাবে রাস্তা থেকে সব বাস তুলে নেওয়া বা না চালানো ঠিক নয়। কলকাতার মতো শহরে যা-ই হোক না কেন, বহু মানুষকে কাজে বেরতেই হবে। তাঁদের দিকটা অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত প্রশাসনের। 

Advertisement

শোভাবাজারে তোলা নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ