


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বোর্ডহীন পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হলদিয়া পুরসভা। আগামী ৯ মে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের এই দুই পুরসভার বাসিন্দারা চাইছেন, বোর্ড গঠনের পর দ্রুত পাঁশকুড়া ও হলদিয়ায় পুরসভা ভোট হোক। নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় পুর পরিষেবা ও শহরে উন্নয়নের কাজে নানা সমস্যা হচ্ছে। তৃণমূল সরকার নির্ধারিত সময়ে পুরসভা ভোট করায়নি। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, অন্য জেলাতেও বহু পুরসভা বোর্ড মেয়াদউত্তীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভোট নিয়ে গড়িমসি করেছে পূর্বতন সরকার। তাই নতুন সরকারের কাছে পাঁশকুড়া ও হলদিয়াবাসীর দাবি, দ্রুত পুরসভার ভোট হোক। পূর্ণাঙ্গ বোর্ড হলে পুরসভা পরিষেবা ও উন্নয়নের কাজে গতি আসবে।
২০২২ সালে ৫ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়া পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। তারপর পুরসভার চেয়ারম্যান নন্দ মিশ্রকে মাথায় রেখে পাঁচজনের পুরপ্রশাসক বোর্ড গঠন করে রাজ্য। পরবর্তীতে সেই বোর্ডে সদস্য সংখ্যা কমানো হয়। তারপর গত বছর ওই বোর্ড ভেঙে দেয় রাজ্য। মহকুমা শাসককে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়। প্রায় চার বছর আগে হলদিয়া পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেখানকার মহকুমা শাসককে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করে রাজ্য। চার বছর ধরেই প্রশাসকের অধীনে ওই পুরসভা চলছে।
পাঁশকুড়া পুরসভায় মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি। এই শহরে নিকাশি ও পানীয় জলের সমস্যায় জর্জরিত মানুষজন। ২০১০-’১১ সালে পাঁশকুড়া পুরসভায় বাড়ি বাড়ি জল প্রকল্পে প্রায় ৪৫কোটি টাকা অনুমোদন হয়। সেই প্রকল্পে রিজার্ভার ট্যাংক বসানো ও পাইপ লাইন পাতা হলেও ঠিকমতো জল পৌঁছায়নি। ওই প্রকল্প নিয়ে বিজেপি, কংগ্রেস একযোগে ধারাবাহিক অভিযোগ করে এসেছে। তারপর দু’বছর আগে আম্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে নদীবাহিত জল প্রকল্পের অনুমোদন আসে। তড়িঘড়ি পাইপ কেনা হলেও প্রকল্পের কাজে গতি নেই। কয়েক কোটি টাকা পাইপ পাহাড়ের মতো উঁচু করে রাখা হয়েছে। অনেকেই বলেন, পুর প্রশাসক বোর্ডের সময়কালে পাইপ কেনাবেচায় কমিশনের খেলা হয়েছিল। অথচ, প্রকল্পের কাজ গতিহারা। জলস্তর ক্রমশ নিম্নগামী হওয়ায় স্যুইডের রিপোর্ট অনুযায়ী পাঁশকুড়া রেড জোনের আওতায় পড়ে। সেখানে সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর উপর নিয়ন্ত্রণ আছে। তবুও আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রোগ্রাম চলাকালীন পানীয় জলের সংকট মোকাবিলায় পুরসভা যথেচ্ছ সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়েছে।
হলদিয়া পুরসভায় মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ২৯টি। চার বছর নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় স্ট্রিট লাইটের সমস্যা থেকে শংসাপত্র সংগ্রহ, এলাকার অভাব অভিযোগ নিয়ে দরবার করা এবং কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ্য করা যায়। ঝড়বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন জায়গায় স্ট্রিট লাইট বিকল হয়ে পড়ছে। তারপর সেই সব জায়গায় নতুন করে লাইট লাগানো নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন মানুষজন। ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলার থাকলে মানুষজন সহজে অফিসে গিয়ে নিজেদের অভাব অভিযোগ নিয়ে দরবার করার সুযোগ পেতেন। গত চার বছরে সেটা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।
পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক বিজেপির সিন্টু সেনাপতি বলেন, পাঁশকুড়া শহরবাসীর স্বার্থে দ্রুত পুরসভা ভোট হওয়া উচিত। নতুন সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাব। একই বক্তব্য হলদিয়ার বিধায়ক বিজেপির প্রদীপ বিজলিরও। তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার ভোটে হেরে যাওয়ার ভয়ে পুরসভায় নির্বাচন করায়নি। নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পর হলদিয়া পুরসভার ভোট করানো নিয়ে উদ্যোগী হবে।