সংবাদদাতা, লালবাগ: পৃথিবীজুড়ে বাড়ছে দূষণ। বাড়ছে তাপমাত্রা। যার থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় সবুজ ফিরিয়ে আনা। তাই বৃক্ষছেদন নয়, বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। এই মন্ত্রকে পাথেয় করে সাগরদিঘির একদল যুবক সাত বছর ধরে গাছ লাগিয়ে আর গাছের চারা বিলি করে দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ার কথা বলছেন। বছরভর বিয়ে, অন্নপ্রাশন প্রভৃতি সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে দুর্গাপুজো, ইদ এবং বড়দিনের উৎসবে পৌঁছে গিয়ে মানুষের হাতে গাছের চারা তুলে দিচ্ছেন। সবুজের আবেদন আরও বেশি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে রবিবার প্রকৃতি তীর্থ পার্কে হাজির হয়ে তাঁরা পেয়ারা, পাতাবাহার ও গোলাপের চারা তুলে দিলেন পর্যটকদের হাতে।
Advertisement
২০১৮ সালে এই সবুজের অভিযান শুরু হয়েছিল সাগরদিঘির বাসিন্দা বছর বত্রিশের যুবক সঞ্জীব দাসের হাত ধরে। ধীরে ধীরে শামিল হন মিঠুন দাস, কাজি সেলিমুদ্দিন, রাহুল ভকত, সামাদ শেখ, রাধারানি দেবনাথ দাস সহ আরও গাছপ্রেমীরা। রাস্তার পাশে তো বটেই, ইতিমধ্যে সাগরদিঘি হাসপাতাল, বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার পাশাপাশি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগিয়ে চলেছেন তাঁরা। এই ক’বছরে প্রায় আড়াই হাজার গাছ সাগরদিঘির আকাশে সবুজ পাতা মেলে জানান দেয় সঞ্জীববাবুদের সাফল্যের কথা। আচার অনুষ্ঠানে হাজির হয়েও গাছের প্রয়োজনীয়তা এবং গাছ লাগানোর আবেদন রাখেন সকলস্তরের মানুষের কাছে। ২০ হাজারের বেশি গাছ বিতরণ করা সাগরদিঘির সেলিমুদ্দিন সাহেবরা এবার ওই প্রচারকে আরও বেশি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ঐতিহাসিক মোতিঝিল পার্কে উপস্থিত হয়ে ফল, ফুল গাছের চারা তুলে দিলেন পর্যটকদের হাতে। এদিন কৃষ্ণনগরের মানসি দাস, জঙ্গিপুরের মিঠু ভৌমিক গোলাপের চারা পেয়ে বেজায় খুশি। তাঁরা বলেন, মোতিঝিলে এসে গোলাপ ফুল নয়, আস্ত গোলাপের চারা পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছি। ওঁদের সঙ্কল্প দেখে অভিভূত হলাম। সাগরদিঘির সবুজপ্রেমীদের গাছের তালিকাতেও আছে অভাবনীয় ভাবনা। তাঁরা মূলত বট, পাকুড়, মেহগনি, লেবু গাছ লাগান। আর বিতরণ করেন পেয়ারা, গোলাপ ও পাতাবাহার। সঞ্জীব ও মিঠুনবাবুরা বলেন, মানুষের সাহায্য নিয়েই আমরা গাছ বিতরণের পাশাপাশি গাছ লাগাই, গাছকে বড় করি। যতদিন সমর্থ থাকবে গাছ লাগিয়ে যাব।



