সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: কোথাও মিকি মাউস, কোথাও আবার ফুল, পশু-পাখি, গাছপালা। কোথাও অক্ষরে সেজে উঠেছে দেওয়াল। সেই ভাঙাচোরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর থাকবে না। উলুবেড়িয়া মহকুমার সরকারি জায়গায় থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে ঢেলে সাজার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে এভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, শিশুদের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রমুখী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভালো সাড়াও মিলেছে।
Advertisement
গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি বেশিরভাগই ‘খিচুড়ি সেন্টার’ নামে পরিচিত। ভাঙাচোরা, পলেস্তরা খসা দেওয়াল, ভাঙা টালির চাল বেয়ে জলের ধারা— এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণেই শিশুরা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আসতে চাইত না। অভিভাবকরা টিফিনের সময় এসে খিচুড়ি সংগ্রহ করে নিয়ে যান যে যাঁর বাড়িতে। এবার শিশুদের আকর্ষণ বাড়াতে এই মহকুমায় সরকারি জমিতে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে তাদের মনের মতো করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। উলুবেড়িয়া ১ নম্বর ব্লকের কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীনগর পূর্ব সামন্তপাড়ায় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে ইতিমধ্যেই সংস্কার করে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য দেওয়ালজুড়ে আঁকা হয়েছে হরেক ছবি। উলুবেড়িয়া ১ নম্বর ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, এখানে শিশুরা মনের আনন্দে খেলবে, অক্ষর চিনবে। এইসব জিনিসের আকর্ষণেই তারা নিয়মিত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আসবে। বিডিও রিয়াজুল হক বলেন, সরকারি জমিতে যেসব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আছে, সেগুলিকে মডেল হিসেবে সাজিয়ে তোলা হবে। উলুবেড়িয়ার মহকুমা শাসক মানসকুমার মণ্ডল বলেন, মহকুমার প্রতিটি ব্লকেই এভাবে মডেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তাঁদের কথায়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে শিশুমনের উপযোগী করে সাজিয়ে তোলায় তাদের আগ্রহ তৈরি হবে, উপস্থিতির হার বাড়বে।



