Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিমতা থেকে ধৃত মধ্যপ্রদেশের কুখ্যাত দুষ্কৃতী

নিমতা থেকে ধৃত মধ্যপ্রদেশের কুখ্যাত দুষ্কৃতী
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: স্রেফ সতর্কতামূলক নজরদারি চালাতে গিয়ে ছ’জন বহিরাগত ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল নিমতা থানার পুলিস। আর তাতেই মিলল ‘ব্রেক-থ্রু’। মোবাইলের সরঞ্জাম বিক্রেতার ছদ্মবেশে গা-ঢাকা দিয়ে থাকা মধ্যপ্রদেশের এক কুখ্যাত ডাকতকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। তারা জানিয়েছে, ধৃতের নাম সঞ্জয় যাদব। শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানা এলাকার একটি গাড়ি শো-রুমে প্রায় ২৬লক্ষ টাকা ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত সে। তার নামে ওয়ারেন্টও রয়েছে। পুলিসকর্তারা বলছেন, এ যেন কেঁচো খুড়তে গিয়ে কেউটের দেখা পাওয়া। 
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস ধরে নিমতা থানার ফতুল্লাপুর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল ছয় যুবক। তাদের নিজস্ব বাইকও রয়েছে। বাইক নিয়ে সকালে বেরিয়ে বিকেল ও রাতের দিকে বাড়ি ঢুকত তারা। গোপন সূত্রে কিছু খবর পেয়ে নিমতা থানার পুলিস সতর্কতামূলক নজরদারি শুরু করেছিল। সেই সূত্রে রবিবার ওই ভাড়াটিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিস। তাদের বাড়ি কোথায়, কতদিন এখানে ভাড়ায় রয়েছে, কী কাজ করে—এসব প্রশ্নের উত্তরও দেয় তারা। পেশায় ফেরিওয়ালা বলে জানায়। তদন্তকারীদের প্রথমে অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। কিন্তু তাদের দেওয়া ঠিকানা ধরে সেখানকার থানায় ফোন করে খোঁজখবর নিতেই সঞ্জয় যাদব সম্পর্কে ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আসে। পুলিস জানতে পারে, এই সঞ্জয়ের বাড়ি মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া জেলায়। ২০২৩ সালের জুন মাসে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানা এলাকায় একটি গাড়ি শোরুমে প্রায় ২৬লক্ষ টাকা ডাকাতি হয়। সেই ঘটনায় সঞ্জয়ের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। এরপর তাকে সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করে মাটিগাড়া থানাতে বিষয়টি জানানো হয়। বাকি পাঁচজনের সম্পর্কে অবশ্য অপরাধমূলক কোনও কাজে যুক্ত থাকার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিস জানিয়েছে, ওই পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করে সোমবার বারাকপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তিনদিনের ট্রানজিট রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিস ওই বাড়ির মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিস জানিয়েছে, শীতের মরশুমে নিমতা, ঘোলা, নিউ বারাকপুর, দমদম এলাকায় ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে বহু দুষ্কৃতী ডেরা বাঁধে।  এলাকায় রেকি করে অপরাধ ঘটিয়ে চম্পট দেয়। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তাই নজরদারি আরও বাড়াচ্ছে পুলিস। 
সম্পর্কিত সংবাদ