নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নামী ব্র্যান্ডের নুডলস সন্তানদের প্লেটে তুলে দিয়ে স্বস্তি পান অভিভাবকরা। তৃপ্তি সহকারে খেয়েও নেয় খুদেরা। মায়েদের মুখের হাসি চওড়া হয়। সেই নুডলসেই কি না ‘বিষ’! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। এমনটাই জানাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। জানা গিয়েছে, শিল্পাঞ্চলের একটি দোকান থেকে নামী ব্র্যান্ডের নুডলসের নমুনা সংগ্রহ করেছিল ফুড সেফটি বিভাগ। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তৈরিতে যে উপাদান ব্যবহার হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। বুধবার জেলাশাসকের নেতৃত্ব আসানসোলে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে মোটা টাকার জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অভিযুক্ত ওই বহুজাতিক সংস্থার বিস্কুটেও ভেজাল পাওয়া গিয়েছে। সেক্ষেত্রেও পৃথক জারিমানা ধার্য করা হয়েছে।
Advertisement
উৎকণ্ঠার শেষ এখানেও নয়। এদিনের বৈঠক থেকে জানা গিয়েছে, একটি নামজাদা সংস্থার গুঁড়ো দুধের প্যাকেটেও ভেজাল পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শিল্পাঞ্চলের একটি বড় দোকান থেকে সেই ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধের প্যাকেট সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, গুণমান অত্যন্ত খারাপ। ওই সংস্থাকে জরিমানা করা হয়েছে বলে খবর। নিরাপদ নয় শিল্পাঞ্চলের বিরিয়ানি সহ অন্যান্য খাবারও। এসব ক্ষেত্রে যেসব রং ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলি স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলেই ফুট সেফটি অফিসারদের তদন্তে প্রকাশ। আবার কাশ্মিরী লঙ্কার গুঁড়োয় মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর লাল রং।
জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস এদিন বলেন, ‘নামী ব্র্যান্ডের তিনটি সামগ্রীতে ভেজাল ধরা পড়েছে। আমরা জরিমানা করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তা পরীক্ষাগারে সেগুলির গুণমান যাচাই করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর কিছু মিললেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খাবারে ভেজাল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তোলপাড় চলছে পশ্চিম বর্ধমানে। ভুরি ভুরি অভিযোগ আসছে মহকুমা শাসক থেকে বিডিও স্তরের আধিকারিকদের কাছে। সম্প্রতি, আসানসোলের মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের কাছে একটি নামী মিষ্টির দোকানের বিরুদ্ধে পচা মিষ্টি বিক্রি করার অভিযোগ আসে। তাঁর নির্দেশে ফুড সেফটি বিভাগের আধিকারিকরা মিষ্টির দোকান থেকে নতুন সংগ্রহ করেছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, চলতি অর্থবর্ষে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত রেগুলেটরি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৫০। তার মধ্যে ১২টি নমুনায় ভেজালের প্রমাণ মিলেছে। তিনটি ক্ষেত্রে জরিমানা করা হয়েছে। বাকি ন’টির ক্ষেত্রে জারিমানা করার প্রক্রিয়া চলছে। এদিনের বৈঠকে ফুড সেফটি আধিকারিকদের ধারাবাহিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক পোন্নমবলয় এস। বৈঠকে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল, আসানসোলের মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস এদিন বলেন, ‘নামী ব্র্যান্ডের তিনটি সামগ্রীতে ভেজাল ধরা পড়েছে। আমরা জরিমানা করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তা পরীক্ষাগারে সেগুলির গুণমান যাচাই করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর কিছু মিললেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



