অর্ক দে, কলকাতা: মাটির নীচে নিকাশিনালা। তার মধ্যে জায়গায় জায়গায় অনুচ্চ পাঁচিল! প্রায় ৬০ বছর বছর পর প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের ভূগর্ভস্থ নিকাশির (বক্স ড্রেন) পলি তুলতে গিয়ে চোখ কপালে উঠেছে কলকাতা পুরসভার কর্তাদের। নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর এমনভাবে পাঁচিল তোলা রয়েছে যে মনে হবে, নিকাশিনালাকে কতগুলি চৌবাচ্চায় ভাগ করা হয়েছে। প্রায় ছ’ফুট উচ্চতার এই নালার ভিতর সাড়ে তিন থেকে চার ফুট উঁচু পাঁচিলগুলি রয়েছে। প্রতিটি অংশে জমে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পলি। এগুলিই জল যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে এসেছে এতদিন। পাঁচিলগুলি ভাঙতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে কর্মীদের। পুরসভার নিকাশি বিভাগ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এমন ১৫টি পাঁচিল ভাঙা হয়েছে। আরও কতগুলি ভাঙতে হবে, জানা নেই।
Advertisement
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৪ সালে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের তলায় এই নিকাশিনালা তৈরি করেছিল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)। তারপর ওই নিকাশির ‘জিরো ডিসিল্টিং’ (সম্পূর্ণ পলিমুক্ত করা) হয়নি একবারও। ফলে বহুকাল ধরে পলি জমেছে চৌবাচ্চার মতো অংশগুলিতে। এই রাস্তার আশপাশের লেক রোড, লর্ডস মোড়, যোধপুর পার্ক, যাবদপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টি হলেই জমা জলের দুর্ভোগ পোহাতে হয় মানুষকে। সেই ভোগান্তি দূর করতে গত বছর এই নিকাশির প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ থেকে সম্পূর্ণ পলি তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। সেই কাজ চলছে। তা করতে গিয়েই নালার ভিতরে নির্দিষ্ট দূরত্বে পাঁচিলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বিভাগীয় এক কর্তা বলেন, ‘কাজ করাতে গিয়ে তো আমরাই অবাক। যোগেশ চন্দ্র কলেজের সামনে থেকে নিকাশি সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। এখন সেই কাজ এগতে এগতে সাউথ সিটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। নিকাশির সুড়ঙ্গ প্রায় ছ’ফুট উঁচু। তার মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর কোথাও সাড়ে তিন ফুট, কোথাও আবার চার ফুটের পাঁচিল রয়েছে। সেগুলি কোথাও খানিকটা ভাঙা, কোথাও আস্ত। ফলে নালার মাত্র দু’ফুট-আড়াই ফুট ফাঁকা অংশ দিয়ে জল যেত। এখন বুঝতে পারছি, কেন এতদিন জল ঠিকমতো বেরত না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ম্যানহোল থেকে পলি তুলেও এই অঞ্চলের জমা জলের সমস্যা মেটানো যায়নি। এখনও পর্যন্ত ১৫টি পাঁচিল ভাঙা হয়েছে। যাদবপুর থানা পর্যন্ত কাজ হবে। আরও কত এমন পাঁচিল পড়বে, কী জানি!’
পাঁচিলগুলি ভাঙতে গিয়ে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার সংস্থার কর্মীদের। ছেনি-হাতুড়ি তো কোন ছার, ঠিকমতো কাজ করছে না ইলেকট্রিক হ্যামারও। নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, দশকের পর দশক ইটের তৈরি ওই পাঁচিলগুলি জল-কাদার মধ্যে রয়েছে। ফলে পাঁচিলের গায়ে শ্যাওলা জমেছে। নানা রাসায়নিক ও ব্যাকটেরিয়া জমে পাঁচিলের গায়ে মোটা পুরু সাদাটে রঙের আস্তরণ পড়েছে। সব মিলিয়ে ইটের তৈরি পাঁচিল যেন আস্ত পাথরে পরিণত হয়েছে। সেই কারণেই এগুলি ভাঙতে গিয়ে এত ঝক্কি বলে মনে করছেন কর্মীরা।
কিন্তু এতগুলি পাঁচিল কোথা থেকে এল? কেনই বা তৈরি করা হয়েছিল এভাবে? পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘এটা হচ্ছে গয়ংগচ্ছ মনোভাব বা চূড়ান্ত অপদার্থতার নমুনা। যখন এই বক্স ড্রেন তৈরি করা হয়েছিল, তখন সম্ভবত কাজের সুবিধার জন্য পাঁচিল তুলে কাজ করা হয়। কাজ হয়ে যাওয়ার পর সেগুলি আর কেউ ভাঙেনি। আর তার জন্য কত মানুষকে এত বছর ভুগতে হল, ভাবুন একবার। আর এখন আমাদের এক এক করে সেগুলি ভেঙে নিকাশির সুড়ঙ্গ সাফাই করতে হচ্ছে।’
পাঁচিলগুলি ভাঙতে গিয়ে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার সংস্থার কর্মীদের। ছেনি-হাতুড়ি তো কোন ছার, ঠিকমতো কাজ করছে না ইলেকট্রিক হ্যামারও। নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, দশকের পর দশক ইটের তৈরি ওই পাঁচিলগুলি জল-কাদার মধ্যে রয়েছে। ফলে পাঁচিলের গায়ে শ্যাওলা জমেছে। নানা রাসায়নিক ও ব্যাকটেরিয়া জমে পাঁচিলের গায়ে মোটা পুরু সাদাটে রঙের আস্তরণ পড়েছে। সব মিলিয়ে ইটের তৈরি পাঁচিল যেন আস্ত পাথরে পরিণত হয়েছে। সেই কারণেই এগুলি ভাঙতে গিয়ে এত ঝক্কি বলে মনে করছেন কর্মীরা।
কিন্তু এতগুলি পাঁচিল কোথা থেকে এল? কেনই বা তৈরি করা হয়েছিল এভাবে? পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘এটা হচ্ছে গয়ংগচ্ছ মনোভাব বা চূড়ান্ত অপদার্থতার নমুনা। যখন এই বক্স ড্রেন তৈরি করা হয়েছিল, তখন সম্ভবত কাজের সুবিধার জন্য পাঁচিল তুলে কাজ করা হয়। কাজ হয়ে যাওয়ার পর সেগুলি আর কেউ ভাঙেনি। আর তার জন্য কত মানুষকে এত বছর ভুগতে হল, ভাবুন একবার। আর এখন আমাদের এক এক করে সেগুলি ভেঙে নিকাশির সুড়ঙ্গ সাফাই করতে হচ্ছে।’



