সংবাদদাতা, কাঁথি: বাইক আটকে কাগজপত্র চেকিংকে কেন্দ্র করে পুলিসের সঙ্গে বচসার জেরে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিস কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল ভূপতিনগর থানার বাজকুল এলাকায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল চণ্ডীপুর থানার দিবাকরপুরের বাসিন্দা শ্যামল প্রামাণিক, বাজকুলের গোবিন্দ মাইতি, বাজকুলের কাখুরিয়াবাড়ির সঞ্জয় দাস, তেথিবাড়ির নির্মল খাটুয়া ও তিওরখালির প্রদীপ সেন। বুধবার তাদের কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, পুলিসের উপর হামলা সহ অন্যান্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাজকুল ওভারব্রিজের নীচে দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কে ট্রাফিক পুলিসের নাকা চেকিং চলছিল। সেখানে বাইক সহ অন্যান্য যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন পুলিস কর্মীরা। সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়া চণ্ডীপুরের বাসিন্দা এক যুবকের বাইকের কাগজপত্র দেখতে চান কর্তব্যরত পুলিসকর্মীরা। কিন্তু বাইক চালক কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। উল্টে পুলিস কেন তাকে আটকাল, তা নিয়ে বচসায় জড়িয়ে পড়ে সে। ওই যুবক আরও লোকজন ডেকে আনে। অনেকেই সেখানে জড়ো হয়ে যায়। পুলিসের সঙ্গে তাদের শুরু হয় তুমুল তর্কাতর্কি। অভিযোগ, তর্কাতর্কি চলাকালীন অভিযুক্তরা পুলিস কর্মীদের কয়েকজনকে ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কি করে। পাশাপাশি পুলিসের একটি বাইকও ভাঙচুর করে। ঝামেলা ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরপর ওসি মহম্মদ মহিউদ্দিন অতিরিক্ত পুলিস বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিস সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যায়। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঝামেলা চলার ফাঁকে বাইক চালকও পালিয়ে যায়। পরে পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে আটক পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ওই বাইক চালকের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা হয়েছে। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ওসি বলেন, পুলিস দ্রুত এলাকায় গিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিসি টহলদারি ও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।



