নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেহালার করুণাময়ী ঘাট রোডে রয়েছে প্রকৃতি দেবী পুর উদ্যান। বাস্তবে এটি কলকাতা পুরসভার উদ্যান হলেও খাতায়-কলমে তার কোনও রেকর্ড নেই। দেখা যাচ্ছে, সেটি অন্য কারও মালিকানাধীন। কিন্তু, সেই জমিটি বহু যুগ আগে কলকাতা পুরসভাকে দান করা হয়েছিল। কিন্তু তারও উল্লেখ নেই পুরসভার সম্পত্তির খাতায়। অন্যদিকে, কুঁদঘাটের ব্যানার্জিপাড়ার উদ্যানটি পুরসভার হলেও সার্ভেয়ার বিভাগের রেকর্ডে পুর সম্পত্তি হিসেবে তার কোনও উল্লেখ নেই। বেহালা, টালিগঞ্জ, ঠাকুরপুকুর, জোকা, যাদবপুর, গড়িয়ার মতো অঞ্চলে পুরসভার এমন বহু সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলি দৃশ্যত সরকারি সম্পত্তি হলেও তার তথ্য পুরসভার খাতায় নেই বলে অভিযোগ। এমনকী দান করা জমিগুলির বিএলআরও মিউটেশন পর্যন্ত করা নেই। সম্প্রতি, এ নিয়ে পুর কর্তৃপক্ষের আকর্ষণ করেন ১৩ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন তথা ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রত্না শূর। তিনি বলেন, ব্যানার্জিপাড়ায় স্টেট ব্যাঙ্ক কলোনি তৈরির সময় স্টেট ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন পুরসভাকে পার্ক ও ভ্যাট তৈরি করার জন্য জমি দান করেছিল। তারও কোন রেকর্ড পুরসভার কাছে নেই। এর ফলে বহু জমি নিয়ে নানা সমস্যা হচ্ছে। পুরসভা ওইসব পার্ক দেখভাল করলেও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বা কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে আটকে যাচ্ছে। কারণ পুরসভাই জানতে চাইছে, ওই জমি কার? আসলে ওইসব জমির উল্লেখ পুরসভার খাতায় নেই। এইসব মূলত দানের জমি। রত্নাদেবীর দাবি, এই সমস্ত জমি সম্পত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে বিএলআরও মিউটেশন করার পর জমির বর্তমান মালিক, পরিমাণ, প্রেমিসেস নম্বর, বর্তমান চরিত্র যথাযথভাবে ‘বাংলার ভূমি’ পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এপ্রসঙ্গে পুরসভার সার্ভেয়ার বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ওই অঞ্চল এক সময় সাউথ সুবার্বান পুরসভার হাতে ছিল। কলকাতায় আওতাভুক্ত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে এমন বহু জমির নথিপত্র হস্তান্তর হয়নি। তাই, যে যে নথিপত্র মিলেছে, সেই সেই জমি আমরা রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করছি। কিন্তু যার কোনও নথি নেই, সেগুলি আপডেট করা সম্ভব না। এই সমস্যা শুধু সংযুক্ত অঞ্চলে নয়, কলকাতাতেও দানের জমি পুরসভার রেকর্ডে নেই।



