Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, স্কুল থেকেই সরানো হল বিবদমান শিক্ষিকাদের

নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, স্কুল থেকেই সরানো হল বিবদমান শিক্ষিকাদের
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নজিরবিহীন পদক্ষেপ! শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বন্দ্বে সব পড়ুয়া স্কুল থেকে টিসি নেওয়ার পর গেটে তালা পড়ে গিয়েছিল। তমলুক পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সেই তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারি স্কুলে সেটআপই বদলে দিল জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ। বুধবার সংসদ সভাপতির এক নির্দেশিকায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এবং এক সহ শিক্ষিকাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তাঁদের জায়গায় নতুন শিক্ষক আনা হয়েছে। স্কুলকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, এই বদলিতে স্কুল আগের অবস্থায় ফেরে কিনা এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Advertisement
তমলুক থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারি স্কুল। এই স্কুলে মোট ৩৭ জন পড়ুয়া ছিল। কিন্তু, প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালী মহেশ খাঁড়ার সঙ্গে দুই সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা অধিকারীর মধ্যে সংঘাতে স্কুলে অচলাবস্থা তৈরি হয়। রোজ দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলায় স্কুলে পঠনপাঠন শিকেয় ওঠে। ঝামেলা মেটাতে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্কুলে যেতে হতো। প্রধান শিক্ষিকা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে রাখায় দুই সহ শিক্ষক শিক্ষিকা অনেকদিন স্কুলে ঢুকতে পারেননি। এই অবস্থায় গত ৩১ ডিসেম্বর একসঙ্গে ৩৩ জন পড়ুয়া টিসি নেয়। তারপর বাকি চার পড়ুয়াও স্কুল ছেড়ে দেয়।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে স্কুল পড়ুয়াশূন্য হওয়ায় নড়েচড়ে বসে জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল। তিন শিক্ষক শিক্ষিকাকে নিয়ে অফিসে জরুরি শুনানি হয়। সেখানে প্রধান শিক্ষিকা এবং দুই সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। সতীনের সংসারের মতো দু’পক্ষের ঠোকাঠুকি লেগেই থাকত। এই অবস্থায় তিনজনকেই বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্কুলকে আগের অবস্থায় ফেরানোর জন্য সেটআপ বদল করা জরুরি। জেলা বিদ্যালয় সংসদ ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিস এনিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেইমতো বুধবার অর্ডার হয়।
তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালী মহেশ খাঁড়াকে শহিদ মাতঙ্গিনীর রঘুনাথপুর নিউ প্রাইমারি স্কুলে বদলি করা হয়েছে। ওই স্কুলের সহ শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে উত্তর ধলহরা হিন্দু বোর্ড প্রাইমারি স্কুলে বদলি করা হয়েছে। অপরদিকে, রামচন্দ্রপুর প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপ রানা তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারিতে যোগ দিচ্ছেন। আর, তমলুক শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গগনাঘাট বিপ্লবী সুরেন্দ্র রক্ষিত প্রাইমারির সহ শিক্ষক অশোক বেরাকে লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্ট সিস্টেমে তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারিতে আনা হচ্ছে। হরিজন প্রাইমারির আরেক সহ শিক্ষক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কে আগামী দিনে বদলি করা হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অনেক স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই দ্বন্দ্ব মেটাতে অনেক সময় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক কিংবা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিন্তু, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে স্কুলে পড়ুয়া শূন্য এবং তালাবন্ধ হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। একসঙ্গে ৩৭ জন পড়ুয়া টিসি নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার ঘটনাও আগে কখনও ঘটেনি। ‘বর্তমান’ সংবাদপত্রে ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল। এনিয়ে কাউন্সিলের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষিকা এবং আরেক শিক্ষিকাকে বদলি করা হয়েছে। অপর সহ শিক্ষককেও বদলি করা হবে। তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারি যাতে আগের অবস্থায় ফিরে আসে তারজন্য যা যা করণীয় সবই করা হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ