Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নজরে তারিকুলের ডানহাত ‘ডাক্তার’

নজরে তারিকুলের ডানহাত ‘ডাক্তার’
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
অভিষেক পাল, বহরমপুর: বহরমপুর সংশোধনাগারে জেএমবি জঙ্গি তারিকুলের ডান হাত ছিল ‘ডাক্তার’। জেলে তাকে ডাক্তার সম্বোধন করেই ডাকত তারিকুল। সেই সূত্রে বাকি বন্দিরাও তাকে ডাক্তার বলে খাতির করত। খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে তারিকুলের সঙ্গে সেও প্রায় আটবছর একসঙ্গে জেলবন্দি ছিল। অসমের বাসিন্দা হলেও সে বিস্ফোরণের আগে বেশ কিছু বছর এই বাংলায় কাটিয়েছিল। সেই সময় তারিকুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিস্ফোরণ কাণ্ডে সাজা হওয়ার পর দু’জনকেই বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। তারিকুল ও তার ঘনিষ্ঠ ডাক্তারকে সবসময় একইসঙ্গে থাকতে দেখা যেত বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। 
Advertisement
জেলে বসে সংগঠন বিস্তারের কাজ করত তারিকুল। তবে সে প্রথমেই নতুন বন্দিদের মুখোমুখি হতো না। প্রথম মগজ ধোলাইয়ের কাজটা করত ওই ডাক্তার। নতুন বন্দিদের কিছুটা বুঝে নেওয়ার পর সে গুরু তারিকুলের কাছে নিয়ে যেত। স্লিপার সেল তৈরির ভূমিকায় ডাক্তারের ব্যাপক মদত ছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। বছরখানেক আগেই সে সাজা শেষ করে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে। তার গতিবিধি এখন কী, সেই দিকে নজর রাখছেন এসটিএফের আধিকারিকরা। 
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অসমের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিজের গ্রামে ‘ডাক্তার’ হিসেবে ভালো পসার জমিয়েছিল। প্রথাগত শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা ওই গ্রামে কবিরাজি-হেকিমি ওষুধ দিয়ে ‘ডাক্তার’ হিসেবে নাম কিনে ফেলেছিল। সে কখনও বাজারে ঘুরে, কখনও দাঁত, কখনও বা বাতের ব্যথার ওষুধ বিক্রি করত। তার বাড়িতেও বিভিন্ন মানুষ ওষুধ নিতে আসত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সব এলাকায় হাফিজি মাদ্রাসা না থাকায় সাধারণত গ্রামের ছেলেদের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়তে পাঠানো হয়। বর্ধমানের একটি মাদ্রাসার সঙ্গে সেই সময় ওই ডাক্তারের যোগাযোগ হয়। সেখানে কিশোর বয়সে সে পড়াশোনা করেছিল। মঙ্গলকোটের ওই মাদ্রাসায় সে জেহাদি প্রশিক্ষণ নেয়। সেই সূত্রেই তার বাড়িতে বহিরাগতদের যাতায়াত বাড়ে। ওই ডাক্তার যে জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য হয়ে উঠেছিল, তা বুঝতে পারেননি বাসিন্দারা। সে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়। সাজা শেষে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সে নিজের এলাকায় যায়নি বলেই জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।
অসম এসটিএফের এক আধিকারিক বলেন, খাগড়াগড় কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত জেএমবি জঙ্গি তারিকুলের সঙ্গে ডাক্তারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জেলে বসেই তারা সংগঠন বিস্তারের কাজ করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে ওই ডাক্তার। এখন তার গতিবিধি কী আছে, সেই দিকে আমরা নজর রাখছি। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তারিকুলের সঙ্গে ডাক্তার আর কখনও দেখা করতে গিয়েছিল কি না, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্য সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া নওদার মুস্তাকিম শেখ ও সাজিবুল ইসলামকে মঙ্গলবার বহরমপুর আদালতে তোলে বেঙ্গল এসটিএফের আধিকারিকরা। বিচারক তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ