নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তিনি পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। কাঁধে রয়েছে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব। কিন্তু পেশার ঊর্ধ্বে উঠে অসহায় এক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন গোবরডাঙা থানার ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। অসহায় পরিবারের কাছ থেকে ফোন পাওয়ার পর তিনি তড়িঘড়ি তাঁর চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা করলেন। নাম গোবিন্দনাথ সাহা। আর জি কর ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে যখন সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন মানুষ, সেই জায়গায় বারাসত পুলিস জেলায় উল্টো পথে হাঁটলেন গোবিন্দ। তাঁর এই কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষ। একইসঙ্গে তাঁর ভাবনার তারিফ করেছেন গোবরডাঙা থানা ওসি পিঙ্কি ঘোষ।
Advertisement
জানা গিয়েছে, গোবরডাঙার ভট্টাচার্যপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জীব সাহা সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কলকাতার একটি শাড়ির দোকানে কাজ করেন। মঙ্গলবার রাতে গোবরডাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার গোবিন্দর কাছে একটি ফোন আসে। অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, আমি সোনাই সাহা বলছি। স্বামী সঞ্জীব সাহা পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। এত রাতে কী করব বুঝতে পারছি না, হাতে টাকাও নেই। এই আর্তি শোনার পর নিজেকে সামলাতে পারেননি গোবিন্দবাবু। তড়িঘড়ি সেই বাড়িতে পৌঁছে যান তিনি। তারপর নিজের টাকা খরচ করে গোবরডাঙার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই রোগীকে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালে তিনদিন চিকিৎসার পর ছুটির সময় নিজেই নিজেই বিল মিটিয়েছেন গোবিন্দ। তিনি বলেন, আমি মাসে যে টাকা বেতন পাই, তাতে কোনওরকমে সংসার চলে যায়। হঠাৎ এক অপরিচিত মহিলা ফোন করে সাহায্য চান। আমি তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। মানুষ হিসেবে এটা আমার দায়বদ্ধতা।
অন্যদিকে সোনাই সাহা বলছেন, আমি গোবিন্দবাবুর নম্বর পেয়ে তাঁকে ফোন করি। তিনি এসে স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে ছুটি— সব দায়িত্বই নিজে পালন করেছেন। এমনকী চিকিৎসার খরচও জুগিয়েছেন তিনি। স্বামীর গলব্লাডারে পাথর হয়েছে। ডাক্তাররা বলেছেন, অস্ত্রোপচার করাতে হবে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমেই অপারেশন করাব। গোবিন্দবাবু পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে সোনাই সাহা বলছেন, আমি গোবিন্দবাবুর নম্বর পেয়ে তাঁকে ফোন করি। তিনি এসে স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে ছুটি— সব দায়িত্বই নিজে পালন করেছেন। এমনকী চিকিৎসার খরচও জুগিয়েছেন তিনি। স্বামীর গলব্লাডারে পাথর হয়েছে। ডাক্তাররা বলেছেন, অস্ত্রোপচার করাতে হবে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমেই অপারেশন করাব। গোবিন্দবাবু পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।



