নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের মহারানি জ্যোতির্ময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া মারিয়াম খাতুন। তার বয়স মাত্র ১৪। বাড়ি কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত ঝিটকেপোতা এলাকায়। স্কুল জীবনে চার দেওয়ালের গণ্ডির বাইরের দুনিয়া তখনও তার কাছে ঝাপসা। অথচ তার আগেই খুদে মারিয়ামকে সংসার জীবন ঢুকিয়ে দিতে তৎপর হয়েছিল বাড়ির লোকজন। অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা, বাইরের ঝাপসা দুনিয়ায় আলো খোঁজার কৌতূহল তখন তার মধ্যে কুঁড়ি হয়ে ফুটছে। বিয়ে হলে সেই কুঁড়ি যে অসময়ে ঝরে পড়বে, তা উপলব্ধি করেছিল বছর চোদ্দোর ওই ছাত্রী। বিয়েটা মেনে নিতে পারেনি। শেষপর্যন্ত পরিবারের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ায় সে। নিজের হাতেই নিজের বিয়ে ভেঙে বীরত্বের নজির গড়ে। খুদে মারিয়ামের সেই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছে রাজ্য সরকার। যার জন্য বীরাঙ্গনার সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে কৃষ্ণনগরের ছাত্রীকে। বৃহস্পতিবার কলকাতার রবীন্দ্রসদনে এক সরকারি অনুষ্ঠানে এই সম্মান তাকে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে উপহারস্বরূপ পাঁচ লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়েছে। যা আগামী দিনেও মারিয়ামের বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জেদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।



