রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রাজনৈতিকভাবে ভীষণ সচেতন। গোটা দেশে বাংলার সঙ্গে সংসদীয় রাজনীতির প্রত্যক্ষ যোগ বহুচর্চিত। কিন্তু কালের নিয়মে তাতে ঘুণ ধরেছে। এমনটাই অভিমত জাতীয় পর্যায়ের ভিন রাজ্যের নেতাদের। সদ্যসমাপ্ত শীতকালীন অধিবেশনে বাংলা থেকে নির্বাচিত সমস্ত দলের এমপিদের পারফর্মেন্স সেই মতামতকে আরও উসকে দিচ্ছে। জনতা এবং বিধায়কদের ভোটে জিতে বাংলা থেকে লোকসভা (৪২) ও রাজ্যসভায় (১৬) এই মুহূর্তে মোট ৫৮ জন এমপি প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সাংসদ গত অধিবেশনে একটিও প্রশ্ন করেননি! রাজ্যসভার ৪ ও লোকসভার ১৮ মিলিয়ে মোট ২২ জন বাংলার এমপি সংসদের উভয় কক্ষে কার্যত ‘নীরব’ ছিলেন। বাংলার মানুষের স্বার্থে সংসদে সরব হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে জেতা এমপিদের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ৫৮ জন এমপির মধ্যে বিজেপির দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও আছেন। তাঁরা হলেন সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর। মন্ত্রী হিসেবে তাঁরা প্রশ্ন করতে পারেন না। তাই এই পরিসংখ্যানে তাঁরা নেই।
Advertisement
একটিও প্রশ্ন না করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন বিজেপির ৩ জন ও তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন এমপি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গেরুয়া পার্টির লোকসভার সাংসদ তথা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতার ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। একইভাবে জোড়াফুল শিবিরের লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার এমপি সুব্রত বক্সি। এছাড়া রয়েছেন শতাব্দী রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, মহুয়া মৈত্র, কাকলি ঘোষদস্তিদার প্রমুখ। রাজ্যসভা ও লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করার প্রতিযোগিতায় বিজেপির কাছে হেরে গিয়েছে তৃণমূল। সংসদের উচ্চকক্ষে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করেছেন দলের পশ্চিমবঙ্গ শাখার মুখ্য মুখপাত্র তথা প্রাক্তন বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য (৩২)। অন্যদিকে, প্রাক্তন সিপিএম নেতা তথা বিজেপির দ্বিতীয় দফার লোকসভার এমপি খগেন মুর্মু লোকসভায় সবচেয়ে বেশি (২৪) প্রশ্ন করেছেন। যদিও সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে তৃণমূলের বর্ষীয়ান এমপিরাও প্রশ্ন করার যুদ্ধে মরণপণ লড়াই দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে লোকসভায় সৌগত রায় ২৩টি প্রশ্ন করেছেন। উল্টোদিকে, রাজ্যসভায় শমীকবাবুর থেকে মাত্র একটি কম প্রশ্ন (৩১) করে তীব্র লড়াই দিয়েছেন তৃণমূলের তিনসাংসদ—সাকেত গোখলে, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও নাদিমুল হক।
২০২১ সালের বিধানসভার ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিন্যাস পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। বামফ্রন্ট কিংবা কংগ্রেসকে অপ্রাসঙ্গিক করে সরকার গঠনের অঙ্ক নিয়ন্ত্রিত হয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপির মেরুকরণের লড়াইয়ে। সেই সূত্রে এই মুহূর্তে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় একমাত্র বাম এমপি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, ইশা খান চৌধুরী ‘হাত’ চিহ্নে জিতে লোকসভায় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই এমপি সংসদের দুই কক্ষে যথাক্রমে ৪টি ও ৩টি প্রশ্ন করেছেন। সব মিলিয়ে বাংলা থেকে জয়ী অধিকাংশ এমপির সার্বিক ভূমিকা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। বিজেপির নতুন এমপিরা সংসদীয় বিষয়ে কতটা সিরিয়াস, তা নিয়েও গুঞ্জন উঠছে দলে।
২০২১ সালের বিধানসভার ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিন্যাস পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। বামফ্রন্ট কিংবা কংগ্রেসকে অপ্রাসঙ্গিক করে সরকার গঠনের অঙ্ক নিয়ন্ত্রিত হয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপির মেরুকরণের লড়াইয়ে। সেই সূত্রে এই মুহূর্তে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় একমাত্র বাম এমপি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, ইশা খান চৌধুরী ‘হাত’ চিহ্নে জিতে লোকসভায় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই এমপি সংসদের দুই কক্ষে যথাক্রমে ৪টি ও ৩টি প্রশ্ন করেছেন। সব মিলিয়ে বাংলা থেকে জয়ী অধিকাংশ এমপির সার্বিক ভূমিকা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। বিজেপির নতুন এমপিরা সংসদীয় বিষয়ে কতটা সিরিয়াস, তা নিয়েও গুঞ্জন উঠছে দলে।



