Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ, বিধ্বংসী স্মৃতি নিয়ে নেপাল থেকে কাটোয়ায় নিয়ামত

নেপালের বিরাটনগর থেকে কোশি ব্যরাজের দূরত্ব মেরেকেটে ৫১ কিলোমিটার। সড়ক পথে এক ঘণ্টার যাত্রা। এই ভোটেকোশি নদীর হড়পা বান প্রথম যে জেলাগুলি গিলে খেয়েছিল, সেই রাসুয়া ও নোয়াকোট জেলার দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।

চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ, বিধ্বংসী স্মৃতি নিয়ে নেপাল থেকে কাটোয়ায় নিয়ামত
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: নেপালের বিরাটনগর থেকে কোশি ব্যরাজের দূরত্ব  মেরেকেটে ৫১ কিলোমিটার। সড়ক পথে এক ঘণ্টার যাত্রা। এই ভোটেকোশি নদীর হড়পা বান প্রথম যে জেলাগুলি গিলে খেয়েছিল, সেই রাসুয়া ও নোয়াকোট জেলার দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। ফলত, বন্যার বিধ্বংসী রূপ দেখার দুর্ভাগ্য হয়নি বিরাটনগরের। তবে, বান-আতঙ্ক আছড়ে পড়েছিল আপাত শান্ত এই শহরে। আগুনের মতো খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল শহরের জনজীবন। চারিদিকে দৌড়ঝাঁপ। পর্যটকদের হোটেল ছাড়ার হিড়িক। আউশগ্রামের ভেদিয়ার কুঠিরপাড়ার বাসিন্দা নিয়ামত শেখ বিরাটনগরে গিয়েছিলেন মায়ের চিকিৎসা করাতে। মা আসমাতারা বিবির এক চোখে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। বিরাটনগরে নামজাদা এক চক্ষু হাসপাতালে গিয়েছিলেন মা-ছেলে। 

Advertisement

শুক্রবার ভোরে কোনওরকমে বাড়ি ফিরেছেন নিয়ামত। চোখেমুখে এখনও আতঙ্কের ছাপ। সেদিনের হড়পা বানের খবরে বিরাটনগরও যে ভয়ে কেঁপে উঠেছিল, তার বিবরণ দিতে গিয়ে বারবার শিউরে উঠছিলেন তিনি। বলছিলেন, ‘রাতে সাত তাড়াতাড়ি হোটেলে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি মোবাইল ফোন কাজ করছে না। তারপর আর ঘুম আসেনি। একটু সকাল হতেই জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখি, বড্ড অচেনা লাগছে পরিচত শহরটাকে। জনমানব শূন্য। ইতিউতি পর্যটকের ভিড়। সবার চোখে মুখে উৎকণ্ঠা। মনে হচ্ছে, ভ্রমণের পরিকল্পনা কাঁটছাট করে বাড়ি ফেরার তাড়া সকলেরই। আর তখনই রুমে এসে খবরটা দিলেন এক হোটেল কর্মী। কাঁপা গলায় অভয় দিয়ে বললেন, আমাদের এখানে হড়পা বান নেমেছে। বাড়িঘর সবকিছু ধুলিসাৎ। তবে, আপনাদের ভয় নেই। নিরাপদেই রয়েছেন। পরে যদি আরও কোনো বিপদ আসে, তাই পর্যটকরা নেপাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। আপনারা আগে বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ 
হোটেল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ওয়াইফাই চালু করে দেয়। ফোন খুলেই নিয়ামত দেখেন, আউশগ্রামের বাড়ি থেকে স্ত্রী ও ভাই মিলিয়ে ৫২ বার ফোন করেছেন। সঙ্গে সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপ কলে কথা বলেন বাড়িতে। পাশপাশি, সিদ্ধান্ত নেন দ্রুত নেপাল ছেড়ে মা’কে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু, ফিরবেন কীভাবে? হড়পা বানের অভিঘাতে গোটা নেপাল প্রায় বিপর্যস্ত। ভেঙে পড়েছে পরিবহণ পরিষেবা। রাস্তায় বাস-অটো নেই বললেই চলে। যে কয়েকটা চলছে, তাতে ওঠা দায়! বিরাটনগর থেকে যুগবানী রেল স্টেশন কোনওরকমে একটা অটোতে করে এলেন। নিয়ামতদের ভাড়া দিতে হল চারগুন বেশি। এদিন ভোরে কাটোয়া পৌঁছন মা ও ছেলে। হাফ ছেড়ে বাঁচেন বাড়ির লোকেরা। নিয়ামত বলছিলেন, ‘এবারে নেপাল গিয়ে এমন একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকব, তা ভাবতেই কেমন লাগছে!’ নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ