পাটনা: জাতীয় রাজনীতিতে নীতীশ কুমার ‘সিঙ্গল ম্যান’ নামেই পরিচিত। তিন বছর আগে লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জেডিইউ সুপ্রিমো। বিহারের পাটনায় তাঁর বাসভবনেই বসেছিল জোটের প্রথম বৈঠক। তবে মাস দু’য়েকের মধ্যেই রণেভঙ্গ দেন বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। পরে ইন্ডিয়া জোট থেকেও বেরিয়ে আসেন। এতদিন পর নীতীশের বিরোধী জোট ছাড়ার কারণ সামনে আনলেন জেডিইউয়ের কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইন্ডিয়া জোট ধ্বংস করেছেন। তাঁদের জন্যই নীতীশকে বিরোধী জোট থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। তৃণমূল নেত্রী এবং আপ প্রধান জোটের আহ্বায়ক হিসাবে সরাসরি নীতীশের বিরোধিতা করেননি। তবে তাঁরা যেভাবে এই পদের জন্য কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের নাম প্রস্তাব করছিলেন, তাতে অপমানিত বোধ করতে থাকেন নীতীশ। এরপর তিনি জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
সঞ্জয় জানিয়েছেন, ‘২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ইন্ডিয়া’ তৈরি হয়। নীতীশই ছিলেন মূল উদ্যোক্তা। তিনি হয়তো জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতেন না। তবে জোটের আহ্বায়ক হিসাবে তাঁকে মেনে নিয়েছিল সব দলই। এরপর একটি বৈঠকে মমতা এবং কেজরিওয়াল বলেন, জোটের আহ্বায়ক পদে একজন দলিতকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তিনি হবেন মল্লিকার্জন খাড়্গে। এই দুই নেতা কংগ্রেসকে কোণঠাসা করে দেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দুই নেতা সর্বত্র যাচ্ছিলেন। তাঁরা সকলের সঙ্গে ফোনে কথাও বলছিলেন। একাজে তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতাও ছিল। তবে দেখলাম, নেতারা একমঞ্চে হাজির হলেও পারস্পরিক সংযোগের কাজটি হচ্ছিল না। এই জোট ভাঙার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা আমি দেখেছি।’ সঞ্জয়ের মতে, কংগ্রেসকে নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে মমতা এবং কেজরিওয়াল সবসময় নীতীশ কুমারের বিরোধিতা করতেন। আমার মতে তাঁরাই জোট ভেঙেছেন।’
তাঁর মতে, মমতা-কেজরিওয়ালের প্রস্তাবের পরেই কংগ্রেস চাপে পড়ে যায়। তারা হয়তো ভাবতে থাকে, তৃণমূল ও আপ বেরিয়ে গেলে জোটের কী হবে। নীতীশ দেখলেন, জোট এগচ্ছে না। কী করতে হবে, সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। শুধু মোদি বিরোধিতাতেই কাজ হবে না। কিছু স্পষ্ট ধারণা নীতীশের ছিল। তাঁর জোট ছাড়ার পর ইন্ডিয়া দিশাহীন হয়ে পড়ে।