নিউ ইয়র্ক: শেষ হল ন’মাসের দীর্ঘ অপেক্ষা। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভশ্চর সুনীতা উইলিয়ামস। সঙ্গে রয়েছেন বুচ উইলমোর, নিক হেগ ও আলেকজান্দার গরবুনভ। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সকাল ১০টা ৩৫ নাগাদ আনডকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্পেসএক্সের ড্রাগন। অর্থাৎ সফলভাবে স্পেস স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এই মহাকাশযান। তারপরেই পৃথিবীর উদ্দেশে ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন চার নভশ্চর। নাসা জানিয়েছে, সূচি অনুযায়ী রাত পৌনে তিনটে নাগাদ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে ওই ক্যাপসুল। সেই সময় গতিবেগ ছিল প্রায় ২৮ হাজার কিলোমিটার। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এরপরই গতি কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ, বুধবার ভোর ৩টে ২৭ নাগাদ ফ্লোরিডা উপকূলে মহাসমুদ্রে নামবেন সুনীতারা। সেখান থেকে তাঁদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাবে উদ্ধারকারী ভেসেল। পৃথিবীতে এই প্রত্যাবর্তন অবশ্য খুব একটা সহজ হবে না। প্রতি পদে রয়েছে বিপদ। এই পরিস্থিতিতে সুনীতাদের জন্য প্রার্থনা করছে তাঁর পিতৃভূমি গুজরাতের মেহসনা জেলা সহ গোটা বিশ্ব।
গত জুন মাসে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন সুনীতা ও বুচ। ঠিক ছিল, আটদিন পর ফিরে আসবেন তাঁরা। কিন্তু বোয়িং স্টারলাইনারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তারপর একাধিকবার সুনীতাদের ফেরত আনার চেষ্টা চালায় নাসা। কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে বারবার তা পিছিয়ে যায়। এই ন’মাস ধরে স্পেস স্টেশনই হয়ে উঠেছিল সুনীতাদের ঘরবাড়ি। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে ১৫ মার্চ মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্যালকন-৯ রকেট। রবিবার স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ মহাকাশযানের ডকিং প্রক্রিয়া শেষ হয়। মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করেন অ্যান ম্যাক্লেন, নিকোল আইয়ার্স, টাকুয়া ওনিশি ও কিরিল পেস্কভ। তাঁদের দায়িত্বভার বুঝিয়ে মঙ্গলবার পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন সুনীতারা। এদিন বিদায় লগ্নে সহকর্মীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন নিক। বলেন, ‘মহাকাশ স্টেশনে থাকা সহকর্মী ও প্রিয় বন্ধুরা, তোমাদের অপেক্ষায় থাকব। ক্রু-৯ বাড়ি ফিরছে।’
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বায়ুমণ্ডলের ঢোকার সময় তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩ হাজার ৮৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পরিস্থিতি থেকে সুনীতাদের রক্ষা করবে মহাকাশযানে থাকা বিশেষ ধরনের ঢাল। তারপর ধাপে ধাপে দ্রুত গতি কমিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় আছড়ে পড়বে যান। চারটে প্যারাশ্যুটের সাহায্যে গাল্ফ অব মেক্সিকোয় অবতরণ করবে ড্রাগন। ২০০৩ সালে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ভেঙে গিয়েছিল প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা নভশ্চর কল্পনা চাওলাদের মহাকাশযান। এই অবস্থায় সুনীতাদের ঘরে ফেরার জন্য প্রার্থনা করছে ভারত তথা গোটা বিশ্ব। গুজরাত থেকে সুনীতার তুতো ভাই দীনেশ রাওয়াল বলেন, ‘সুনীতা দেশের গর্ব। ওঁদের জন্য যজ্ঞ করছি। নিরাপত্তার জন্য মন্দিরে মন্দিরে প্রার্থনা করেছি। সুনীতা ফিরে এলে মিষ্টি বিতরণ করব।’